হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: হাকিমপুর উপজেলার হিলির শান্তিরমোড় নামক এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানের ভেতর থেকে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় সবুজ (১৮) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের দাবী তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হিলির শান্তিরমোড় নামক এলাকায় রাজিবের কম্পিউটারের দোকান ঘরের ভেতর থকে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম ও হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান উপস্থিত থেকে ঘরের তালা ভেঙ্গে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে হাকিমপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খাজা মিয়া ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসরাইল শেখ উপস্থিত ছিলেন।
নিহত সবুজ হাকিমপুর উপজেলার ছোট জালালপুর (নওনাপাড়া) গ্রামের গনেশের ছেলে এবং রাজিব উপজেলার চুড়িপট্টি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
নিহতের ভগ্নিপতি নিপেন জানান, শনিবার তার শ্যালক সবুজ ও হিলির চুড়িপট্টি এলাকার রাজিব দুইজন মিলে ভারতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য গিয়ে সে দেশের একজনকে অগ্রিম বাবদ ১০ হাজার টাকা দিলে সে টাকা নিয়ে সে পালিয়ে যায়। সে সময় রাজিব সবুজকে আটকিয়ে রেখে আমার নিকট রাত দশটায় ফোন করায় যে, আমি সবুজের কাছে দশ হাজার টাকা পাবো, সে জন্য আপনার শ্যালককে আটকিয়ে রেখেছি, টাকা দিয়ে আপনার শ্যালককে নিয়ে যান। এ সময় তাকে বলি যে রাত হয়েছে আর এখন আমার কাছে এতো টাকাও নেই সকালে টাকা যোগাড় করে নিয়ে যাবো। সে সময় আমার শ্যালক আমাকে বলে ভোরের মধ্যে টাকা না নিয়ে আসলে ওরা কিন্তু আমাকে মেরে ফেলবে এবং আমাকে শান্তির মোড়ের একটি কম্পিউটারের দোকানে আটকিয়ে রেখেছে।
সে মোতাবেক আজ রোববার সকালে দশ হাজার টাকা নিয়ে রাজিবের বাড়িতে গিয়ে সবুজকে ফেরতের কথা বললে তাদের বসিয়ে রেখে রাজিব সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আমরা জানতে পারি যে সবুজকে হত্যা করে লাশ রাজিবের কম্পিউটারের ঘরে ফ্যানের সাথে দড়ি দিয়ে ঝুলে রেখেছে। বিষয়টি পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে রাজিবের ঘর হতে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত সম্পর্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।