স্বাস্থ্য ডেস্ক: হরহামেশা রোগীরা গ্যাসের ওষুধ চান! আর ওষুধের দোকানদারও খুশি মনে রোগীর কাছে অ্যান্টাসিডজাতীয় ওষুধ বিক্রি করেন। ডাক্তার হিসেবে যদি রোগীর কাছে জানতে চাই- কোন গ্যাসের ওষুধ দেব? গ্যাসটা কোথায়? গ্যাসের জন্য কি কষ্ট বোধ করেন? গ্যাসটা যে আছে তা কীভাবে বোঝেন, খুব কম রোগী এর সদুত্তর দিতে পারেন।
তখন রোগী অবাক হন- ডাক্তার, গ্যাস চিনেন না! এরপরও জানতে চাইলে কোনো কোনো রোগী বলেন, চাঁদি জ্বলে, বুক চাপ দিয়ে থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দম নিতে পারি না, খেলে পেট ভার ভার লাগে, পেটে বুট বুট শব্দ করে, ঢেঁকুর ওঠে, বদহজম হয়, বায়ু নির্গত হয়।
কোনো কোনো রোগী বলেন, আমার গ্যাসট্রিক আছে।তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে হরেক রকম অ্যান্টাসিড, রেনেটিড, ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করেও অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
পেটের পীড়া মানেই গ্যাস, ডায়রিয়া মানেই গ্যাস, পেপটিক আলসার মানেই গ্যাস- তা কিন্তু কখনোই নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, রোগী সাধারণত আইবিএস বা ইরিটেবল বা ওয়েল সিনড্রোম, উত্তেজনা, বিষণ্নতা, পিত্তথলির অসুখ, পাকস্থলীতে ঘা, কৃমি বা পরজীবী ঘটিত কোনো রোগে ভুগছেন।
সঠিক রোগ নিরূপণ না হলে এ সমস্যা অনেক জটিল ব্যাধি যেমন, ইসকেমিক হৃদরোগ, অগ্নাশয়ে প্রদাহ, লিভার সিরোসিস, কিডনিতে প্রদাহ, ফ্যাটিলিভারজাতীয় রোগ থেকেও পেটে গ্যাসের মতো লক্ষণ অনুভব হতে পারে। অতএব ছোটবড় যে কোনো কষ্টকেই গ্যাস ভেবে অ্যান্টাসিডজাতীয় ওষুধ খাবেন না। রোগ নির্ণয় করিয়ে ওষুধ খেতে হবে। ঢেঁকুর কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত নয়, এটি অভ্যাসগত।
হেঁচকিই বরং অনিয়ন্ত্রিত এবং তা রোগের পর্যায়ে পড়ে। ঢেঁকুরে কিছুটা বায়ু বের হয় সঙ্গে সঙ্গে কিছু বায়ু খাদ্যনালিতে আটকা পড়ে। পরিণতিতে বুকে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়, ঢেঁকুরের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
বায়ু নির্গমন শরীরের ফিজিওলজিক্যাল ব্যাপার। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা বাড়ে, নিয়ন্ত্রণ কমে।
এটি কমানোর জন্য ওষুধ অপ্রয়োজনীয়। ফুলকপি, পাতাকপি, ব্রোকলি, শালগম, কুমড়া, মুলা, শিম, শুকনা মটর, ডিম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আচার, কোমল পানীয়জাতীয় খাদ্যগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করে। খাদ্য তালিকায় এসব গ্রহণ পরিহার করুন। তাতেই পায়ুপথে বায়ু নির্গমন কমে যাবে। রোগ নিরূপণ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।