সিএসএম তপন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের ৫২ লাখ টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংস্কার না হওয়ায় বিদ্যালয় গুলো বেহাল অবস্থায় পরে আছে। কোন কোন বিদ্যালয় নাম মাত্র কাজ করে লোক চক্ষুকে ধুলো দেয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক নেতা, উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকি প্রকৌশলীরা।
অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাঠ দানে অযোগ্য ও ঝুকিপূর্ণ ৩৪টি বিদ্যালয়ে ১লাখ টাকা করে ৩৪ লাখ টাকা ৩টি বিদ্যালয়ে দের লাখ টাকা করে ৪লাখ ৫০ হাজার টাকা।মাঝারি সংস্কারের জন্য ৩০টি বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার টাকা করে ৯ লাখ টাকা ও ছোট ধরনের টয়লেট মেরামতের জন্য ৩০ টি বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।এসব কাজের তদারকির জন্য উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ আশরাফ আলীকে প্রধান করে ১ জন সার্ভেয়ার ও ৩জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব অর্পন করা হয়। সার্ভেয়ার নইমুল হক সহ উপ-সহকারী ২জন পাঠ দানে অযোগ্য ও ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় গুলো চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন কর্তপক্ষের কাছে।কিন্তু অসাধু প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে যেনতেন প্রকারের কাজ করে বরাদ্দের সমস্ত টাকা ভাগাভাগি করে নেন।বড়ভিটা চন্দনপাঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উওর দুরাকুটি ময়দান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরা পীর ফকির পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরা এম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিকাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ের নাম মাত্র কাজ করে বরাদ্দের টাকা লুঠপাঠ করে।মাগুরা এম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মারিয়া বেগম সোহায়রা বেগম জানেন না তাদের বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের বরাদ্দের কথা।এসব বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লাভলু মিয়া উপেদ্রনাথ ও ইউনুস আলীর সাথে কথা হলে তারা সবাই অভিযোগ করে বলেন দূর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম নাম মাত্র কাজ করে বরাদ্দের টাকা লুটপাঠ করেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সংস্কার কাজের বরাদ্দের চেক নিতে গেলে শতকরা ৪০ ভাগ টাকা অগ্রীম নিয়ে চেকের পাতায় স্বাক্ষর করেন।বাকি টাকা দিয়ে আমরা যেটুকু পেরেছি কাজ করেছি। চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন তদারকি উপ-সহকারী প্রকৌশলী গণ কাজের মান নির্ণয় না করে শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে শতভাগ কাজের প্রত্যায়ন পত্র নিয়েছেন।চেয়ারম্যান আরো জানান,শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম সংস্কার কাজ ছাড়াও উপকরণ ক্রয়, নৈশ্য কাম প্রহরী নিয়োগ, নতুন শিক্ষকদের সার্ভিস বুক খোলা,মেডিকেল ছুটি,মাতৃত্বকালীন ছুটি, টাইম স্কেল, ডেপুটেশন বদলি বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রংপুর শহরে ৩টি ফ্লাট বাড়ি করেছেন। আমি এ দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।সংস্কার কাজের তদারকি সহকারী-প্রকৌশলী আব্দুর রউফ(রানা) ও তপন চক্রবর্ত্তীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের পাওয়া যায়নি।উপ-সহকারী প্রকৌশলী মান্নান বসুনিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন তদারকির দায়িত্বে আমরা ৪ জন নিয়োজিত ছিলাম তারা প্রত্যয়ন দিয়েছে কিন্তু আমি কাজ দেখিনি তাই প্রত্যয়ন ও দেইনি।তারা কিভাবে টাকা উত্তোলন করলো আমি জানি না।উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ আশরাফ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি অবসর গ্রহন জনিত কারণে পিএলআর এ আছি তাই আমি কিছু বলতে পারবো না। আপনারা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করার জন্য ১লাখ টাকা দিয়েছি। এই ১লাখ টাকা আমি কোথা থেকে দিবো। আর পত্রিকায় লিখলে কি হবে আমি জানি আপনারা যা পারেন লিখেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সংস্কার কাজ আমার থেকে উপজেলা প্রকৌশলরি ভালো জানার কথা আমি তো আর প্রকৌশলী নই তবে কাজে অনিয়ম হলে অবশ্যই তার বিরূদ্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।