রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সোমবার সকাল থেকে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪টি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করার খবর পাওয়া গেছে। গত তিন দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে এক কিলোমিটার বাঁধ রাস্তাটি সম্প্রতি ভেঙ্গে যাওয়ায় বিদ্যানন্দ ইউপি’র প্রায় হাজারো পরিবারসহ নাজিমখান, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও ছিনাই ইউপি’র আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ৫শ’ হেক্টর জমির রোপা-আমন পানির নিচে ডুবে গেছে এবং ওইসব এলাকায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি ওইসব পরিবারগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিবন্দি দুর্গত এলাকা বিদ্যানন্দ ইউপি’র চর বিদ্যানন্দের রফিকুল ইসলাম (৪০), আব্দুস সামাদ (৬৫), মোহাম্মদ আলী (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন, গত চার দিন ধরে চরে পানিবন্দি হয়ে পড়ে আছি। এখন পর্যন্ত সাংবাদিক ছাড়া কেউ হামারগুলার পাসোত আইসে নাই বাহে! বৌ-পোলাপানদের নিয়ে অতিকষ্টে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকার উপর নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। এদিকে অত্র উপজেলায় টানা বর্ষনে কাঁচা তরিতরকারী শাক-সবজি, পটোল, ঝিংগা, ঢেঁড়শ, কাঁচামরিচ ক্ষেতে পানি জমায় সেগুলো মরে যাওয়ার উপক্রম এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় হু-হু করে বেড়েই চলছে কাঁচা বাজার। অপরদিকে উপজেলায় ৫শ’ হেক্টর জমির রোপা-আমন, প্রায় ৩ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কথা জানান রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টী চন্দ্র রায়। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৮শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ওইসব পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য স্ব-স্ব ইউপি’র চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে তালিকা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। শীঘ্রই পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ দেয়া হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহেরের সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।