কবিতায় প্রেম আর প্রেমে কবিতা থাকবে না তা কি করে হয়। রাগে-অভিমানে, অভিযোগে এমনকি আবেগ প্রকাশে কবিতার আবেদন ছিল,আছে। কবিতায় মানুষ নিজের মনের কথা খুঁজে পায়। দু টি প্রেমের কবিতা থেকে খুঁজে দেখুনতো কোন কবিতায় লুকিয়ে আছে আপনার মনের কথা।
তোমার চোখ এত লাল কেন?
নির্মলেন্দু গুণ
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে
আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে
আমি চাই কেউ আমাকে খেতে দিক ।
আমি হাতপাখা নিয়ে কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না
আমি জানি, এই ইলেকট্রিকের যুগ নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী -সেবার দায় থেকে
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক
আমার জল লাগবে কি না, নুন লাগবে কি না
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরও একটা তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না ।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি
আমি বলছি না ভলোবাসতেই হবে
আমি চাই কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরজা খুলে দিক
কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক ।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক
কেউ অন্তত আমাকে জিজ্ঞেস করুক
‘তোমার চোখ এতো লাল কেন ?
চিঠি দিও
মহাদেব সাহা
করুণা করে হলেও চিঠি দিও
খামে ভরে তুলে দিও আঙ্গুলের মিহিন সেলাই ভুল বানানেও লিখো প্রিয়,
বেশি হলে কেটে ফেলো তাও
এটুকু সামান্য দাবি
চিঠি দিও।
তোমার শাড়ির মতো অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও …
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই
পথ চেয়ে আছি
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও
বাড়ি পৌঁছে দেবে ….
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো
তোমার কুশল!
করুণা করে হলেও চিঠি দিও
ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি দিও
খামে কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু।
হয়তো পাওনি খুঁজে সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও