সিসি নিউজ : অব্যাহত ভারি বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে বানের পানি প্রবেশ করায় ওই সব গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রীর অভাবে বন্যাকবলিত মানুষজন অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে বন্যার কারনে বুধবার ছোটখাতা গ্রামের দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পূর্বাভাষ কেন্দ্র সূত্র জানায়, কয়েক দিন থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাত নটা থেকে নদীর পানি বাড়তে থাকে যা বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার নদী তীরবর্তী টেপাখড়িবাড়ী, পুর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, ঝুনাগাছচাঁপানী, পূর্বটেপাখড়িবাড়িসহ পাশ্ববর্তি বাইশপুকুরচর, কিসামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর,খালিশাচাঁপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী,কৈমারী এলাকার নদী তীরবর্তী চরগ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এসব এলকার অন্তত পাঁচ সহ¯্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে বানের বানিতে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধা ৬টা থেকে নদীর বাড়তে থাকে যা বুধবার সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার সকাল ৯টায় ৩০ সেন্টিমিটার ও বেলা ১২টায় ২০সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় পানি আরো কমে ১২সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি জানান গত ১৫ আগস্ট নদীর পানি বিপদ সীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেশ কিছু দিন যাবত পানি কমে সাভাবিকতায় চলছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে আবারো পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারাজের সবকটি ¯¬ুইট গেট খুলে রেখে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিস্তা নদীর র্তীরবর্তী ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের মফি উদ্দিন (৫৫) জানান, গত ১৫ দিন থেকে নদীর বানের বানিতে বাড়ি-ঘর কোমড় সমান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্য দের নিয়ে বাঁধের ওপড় আশ্রয় নিয়েছি।
ওই গ্রামের মর্জিনা বেগম (২৮) জানান, বানের পানিতে ঘরে থাকা চাল,চুলাসহ সকল আসবাবপত্র তলিয়ে রয়েছে। গত কয়েক দিন থেকে এক মুঠো ভাত খেতে দিতে পারিনি ছেলে মেয়েদের। শুধুমাত্র চিরাগুড় খেয়ে বেঁছে আছি। সপ্তাহ খানের আগে চেয়ারম্যান এসে নামের তালিকা করে নিয়ে গেছে। কিন্তু কিছুই পেলাম না।
একই ইউনিয়নের গ্রোয়িং পাড়ার জয়নুদ্দীন (৭০) জানান, নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেলেই এই গ্রামটি তলিয়ে যায় বার বার। গত ১৫ দিনে নদীর পানি বাড়া কমার খেলায় এই গ্রামের পাঁচশত পরিবারের লোকজন কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। খেয়ে না খেয়ে সকলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছি। এই গ্রামে মাত্র ১৭টি পরিবারকে একবার সরকারী সহযোগীতা দিলেও বেশিরভাগ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, কিসামত ছাতনাই চরের ২টি ওয়ার্ডের আংশিক সারে ৩শ পরিবার পানি বন্দি রয়েছে। গতকাল তারা উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল। মঙ্গলবার তাদের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান এর আগে সারে ৩শত পরিবারের চাহিদার বিপরীতে ১৬৬ পরিবারকে সরকারী সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাকীর হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ্যদের মধ্যে দুই দফায় ডিমলা উপজেলায় ২৫মেট্রিক টন চাল ৪০ হাজার টাকা ও জলঢাকা উপজেলায় ১০মেট্রিক টন চাল ও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।