ঢাকা : সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে পদায়নের সময় কিছু চিকিৎসককে ওএসডি হিসেবে রাখা হয়েছিল; তাদের আগামী দুই বছর বাধ্যতামূলক ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মস্থল থেকেই চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওএসডিসহ নতুন ছয় হাজার ৮৯ চিকিৎসককে আগামী দুই বছর বাধ্যতামূলক তাদের ইউনিয়ন উপজেলা পর্যায়ের কর্মস্থল থেকেই চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। দুই বছরের আগে নিজ কর্মস্থল থেকে তারা বদলি হতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে দেশে চিকিৎসকদের জন্য ২৫ হাজার পদ রয়েছে। আর মোট সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ চিকিৎসককে ওএসডি হিসেবে দেখানো যায়। এক্ষেত্রে আড়াই হাজার চিকিৎসককে ওএসডি হিসেবে দেখাতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু অধিদফতর মাত্র ১ হাজার ৬৪৭ জন চিকিৎসককে ওএসডি হিসেবে দেখিয়েছে। ওএসডি এসব চিকিৎসকের কেউ স্বাস্থ্য অধিদফতরে কাজ করবেন না। তাদের কর্মস্থল হবে উপজেলা ও ইউনিয়নে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উপজেলাসহ সকল পর্যায়ে চিকিৎসকদের জন্য নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত পদ না থাকার অর্থ এই নয় যে, দেশে চিকিৎসকদের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬৫ হাজার চিকিৎসক থাকা দরকার। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২২ হাজার চিকিৎসক।
এদিকে দেশে সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুরোনো চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক দিয়েই সবকিছু সামাল দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ৩১ থেকে ৫০ করা হচ্ছে। জেলা হাসপাতালেও রোগীর শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তাই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সবাইকেই গ্রামে থেকে সেবা দিতেই হবে।
চিকিৎসকরা কর্মস্থলে থেকে নিয়মিত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন কি না তা মনিটরিং করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইয়ুবুর রহমানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।