ভৈরববাজার থেকে ফিরে এম আর মহসিন: কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজার রেলওয়ের জংশনটিতে টিকিট কালোবাজারি ও সংশ্লিষ্টদের আঁতাতের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। এ জংশন থেকে যে কোন গন্তেব্যে যেতে কাউন্টারে আসন ছাড়াই টিকিট দিচ্ছে কতৃপক্ষ। আর আসন সংযুক্ত টিকিটগুলি কালোবাজারিরা কাউন্টারের সামনে প্রকাশ্যে দুই থেকে তিন গুন অতিরিক্ত অর্র্থ নিয়ে দিচ্ছেন যাত্রিদের হাতে। এ নিয়ে যাত্রীরা রেলওয়ের আইনÑশৃংখলা বাহিনি উর্ধত্বন কিংবা টিকিট বুকারদের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দিনে দিনে এ অনিয়ম বেড়েই চলেছে এ জংশনে। আর আসন বানিজ্য করে জড়িতরা লাভবান হলেও যাত্রিরা হচ্ছেন পিষ্ট। তাই আসন নিয়ে বাণিজ্যকারিদের যথাযথ শাস্তিসহ দীর্ঘদিনের এ দূর্ভোগ থেকে রেহাই চান যাত্রিসাধারণ।
গত সোমবার দুপুর ২টায় এ জংশনে দেখা যায়, কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। কিছু সময় পরই ১১ সিন্দুর আন্তনগর গোধুলী ট্রেনটি ঢাকা থেকে প্রবেশ করবে। এতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই টিকিট প্রত্যাশিরা ছটফট করছে। তবে অনেকে টিকিট কিনলেও কাউন্টার ছেড়ে যাচ্ছেন বেশিরভাগ যাত্রীরা। পার্শে¦ই আকাশ নামে এক যুবক দাড়িয়ে প্রকাশ্যে আসন সমৃদ্ধ টিকিট বেচছেন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। হযরত আলি (২৮)নামে ঢাকাগামি এক যাত্রি জানান, কাউন্টারে টিকিট দিচ্ছে তবে সিট নেই। আর পরিবার নিয়ে দাড়িয়ে দুরের এ ভ্রমনে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে একটি ৮০টাকার টিকিট ১৭০ টাকা কিনলাম। একই দশায় পড়েছেন নীলফামারী থেকে আতী¡য়ের বাড়ি ভৈরবে বেড়াতে যাওয়া চাকুরিজীবি আহসান হাবিব। তিনি আরো বলেন , ৭সদস্যর টিকিট কাটতে গিয়ে কাউন্টারে বলছে সিট নেই। অথচ সিটের টিকিট প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে বেচছে কালোবাজারিরা। এ নিয়ে ষ্টেশন মাষ্টারকে অভিযোগ দিলে তিনি উল্টো ধমক দিয়ে বলেন পুলিশের কাছে যান। তবে হয়রানির ভয়ে আর কাউকে অভিযোগ দেননি এ যাত্রী। এ জংশনের টিকিট বিক্রেতা মোঃ জামিল জানান, এখানে ৫ দিন আগে কাউন্টারে টিকিট ছাড়া হয়। কে কিনল আর কে না কিনল এটি আমাদের বিষয় নয়। তবে রেলওয়ের আইন শৃংখলা রক্ষাকারির ইব্রাহিম ও জাহের নামে দুই নিরাপত্তা প্রহরী জানান, এখানে যাহা কিছু হয় তদারকির দায়িত্ব ষ্টেশন মাষ্টারের তাই তার অর্ডার ছাড়া আমরা কোন কিছুই করতে পারি না। একই কথা বলেন রফিকুল ইসলাম নামে এ জংশনের এক জিআরপি পুলিশ। এ নিয়ে আকাশ নামে আসনের টিকিট বিক্রেতা এক কালোবাজারি জানান, আমরাই টিকেটের মূল্যে থেকে ৩০থেকে ৪০টাকা বেশি দিয়ে কিনি। এখন এর থেকে বেশি দরে না বেচলে আমাদের এ ব্যবসা পুরো লোকসান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ জংশনের এক ব্যবসায়ি জানান, প্রতিদিন এখানে মহানগর, ১১সিন্ধুর, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্রলা এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেনগুলি যাওয়া আসা করে। তাই হাজারÑহাজার যাত্রী যাতায়াত করে এ জংশন থেকে। আর এ সুযোগে বিভিন্ন পেশাজিবীরা আঁতাতের মাধ্যমে এ ব্যবসা দির্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে। তাই সকল যাত্রি জানে প্রকৃত দরে টিকেট এখানে পাওয়া যায় না। তবে টিকেট বিক্রির কালোবাজারীদের সাথে জরিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যান ভৈরব জংশনের ষ্টেশন মাষ্টার আব্দুল মোতালিব। তিনি এ প্রতিবেদক কে ধমকের স্বরে এ বিষয়টি পুলিশের কাছে জানানোর কথা বলেন। তবে রেলওয়ের এ জংশনে কারা টিকেটে আসন বানিজ্যের সাথে জরিত তাদের কে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যাবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রিদের রেলওয়েতে আনন্দদায়ক ভ্রমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান এ পথে ভ্রমনে ভুক্তভোগিরা।