• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

শিল্পী ফিরোজা বেগম আর নেই

index_50851ঢাকা : বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম আর নেই । রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‍অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

ফিরোজা বেগম হৃদযন্ত্র ও কিডনি সক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তাঁর শরীরে জন্ডিস ধরা পড়েছিলো।

গত সপ্তাহে ফিরোজা বেগমকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত বুধবার তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত শুক্রবার তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণ মোহন সাহু ও মজিবুর রহমান।

তার পরিবারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার ফিরোজা বেগমকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা।

উপমহাদেশের বিখ্যাত এই নজরুলসংগীতশিল্পীর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৮ জুলাই, ফরিদপুরের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মা বেগম কওকাবুন্নেসা। স্বামী কমল দাশগুপ্ত। ফিরোজা বেগমের তিন সন্তান তাহসিন আহমেদ, হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ। মাত্র ১২ বছর বয়সে ইসলামি গান নিয়ে ফিরোজা বেগমের প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি।

ফিরোজা বেগম পেয়েছেন স্বয়ং কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুর্লভ সান্নিধ্য। পেয়েছেন অগণন পুরস্কার ও সম্মাননা। চেষ্টা, নিষ্ঠা আর সততার গুণে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন নজরুলসংগীতের সম্রাজ্ঞীর আসনে।

নজরুলসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী স্বর্ণপদক, সেরা নজরুলসংগীতশিল্পী পুরস্কার (টানা বেশ কয়েকবার), নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট, এমন আরও অগণন পুরস্কার ও সম্মাননা। এ ছাড়াও জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে পেয়েছেন গোল্ড ডিস্ক। ফিরোজা বেগম ২০১১ সালে পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ