বিনোদন ডেস্ক: কিছুদিন আগে পতিতাবৃত্তির দায়ে আটক হওয়া ভারতীয় অভিনেত্রী শ্বেতা বসু প্রসাদের পক্ষে কথা বলার জন্য অন্তত একজন এগিয়ে এসেছেন। শ্বেতা বিভিন্ন ছবি ও টিভি সিরিয়ালে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। এ রকম একটি নাটকে শ্বেতার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সাক্ষী তানওয়ার। আজ বাস্তবে মায়ের মতো তিনিই শ্বেতার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। শ্বেতা ২০০২ সালে ‘মাকড়ী’ ছবির জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। সেই শ্বেতাই কয়েকদিন আগে অর্থাভাবে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত হওয়ার পর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ‘কাহানি ঘর ঘর কি’ নামের একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালে শ্বেতার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সাক্ষী। অনলাইন ডিএনএ’তে প্রকাশিত একটি লেখায় সাক্ষী সে সময়কার ৯ বছর বয়সী শ্বেতাকে খুব মিষ্টি ও প্রতিভাবান বলে উল্লেখ করেছেন। সাক্ষী তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন, আজ শ্বেতা পতিতাবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হলেও, তার ‘ব্যবসায়ী খদ্দের’দের নাম কেন প্রকাশ হচ্ছে না? সাক্ষী লিখেছেন, সৎভাবে বলছি, আমি সত্যিই খুব হতাশ এটা দেখে যে, গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে সেসব খদ্দেরদের নাম ও পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে সে সব ব্যবসায়ীর নাম জানার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কিন্তু সে সব নাম প্রকাশিত হোক, আমি এ জন্যই চাইবো যে, যাতে তাদের পরিবার, মা, বোন, কন্যা ও স্ত্রী ও বন্ধুরা তাদের অপকর্ম সমপর্কে ধারণা পায়। শ্বেতা কোথায় আছে, সে সমপর্কেও লিখেছেন তিনি। একই সঙ্গে এটাও বলেছেন, তার আসল মা’কে এখনও তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমি তার উদ্দেশ্য ও সমস্যা সমপর্কে জানি না, কোন সমাধানও আমার জানা নেই। আমি যা জানি তা হলো সে এখন রিমান্ড সেলে আছে এবং তাকে তার হাতে একটি বিবৃতি তুলে দেয়া হয়েছে মেনে নেয়ার জন্য। এটি যে সে মেনে নিয়েছে, সেজন্য সে অন্তত যথেষ্ট সাহসী। আমি এ লেখাটি লেখার ইচ্ছা তখনই পোষণ করেছিলাম, যখন এ সমপর্কে আমি জানতে পেরেছি। কিন্তু আমি তার সঙ্গে আগে দেখা করতে চাই। তা না পেরে, আমি তার আসল মায়ের সঙ্গে কথা বললাম। আমাদের মধ্যে ক’জন জানে যে, তার মা’কে এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে রিমান্ড সেলে দেখা করতে দেয়া হয়নি? আমাদের মধ্যে ক’জন জানে যে, একজন বিচারক তার মা’কে জানিয়েছেন যে, তিনি খুব উচ্ছলপ্রাণ শিশুর মতো এবং তিনি রিমান্ড সেলের অন্যদের সঙ্গে গান ও জীবন নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু তবুও তার মা অসহায় ও পরাজিত বোধ করছেন। তার অত্যন্ত যৌক্তিক কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেছেন, আমার মেয়ে কোন অপরাধী নয়, তাহলে তার নাম ছড়ানো হলো কেন? তার ছবি সহকারে যেসব প্রতিবেদন গণমাধ্যমে এসেছে, সেসব যদি তার জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে, সেটার কি হবে? ঈশ্বর ক্ষমা করুক, যদি সে কয়েকদিন পর মনে করে যে এই জীবন বয়ে নেয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। এরপর যদি কোন ভয়াবহ পদক্ষেপ নেয়। তাহলে? যে দেশে এমনকি ধর্ষক ও খুনিদেরও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আছে, তাহলে শ্বেতার ক্ষেত্রে সে অধিকার লঙ্ঘিত হলো কেন? তবে শ্বেতার ব্যবসায়ী খদ্দেরদের তালিকা প্রকাশের জন্য একমাত্র আহ্বানকারী সাক্ষীই নন। বরং ‘শহীদ’ ছবিটির পরিচালক হংসন মেহতা গত সপ্তাহে টুইট করে এ দাবি তুলেছিলেন। মেহতা নতুন ছবিতে শ্বেতাকে অভিনয়ের আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন। অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি টুইট করেছেন, সে খদ্দেরদের পরিচয় প্রকাশ করতে। অপরদিকে রানী মুখার্জি এই ঘটনা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। উৎসঃ মানব জমিন