শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর: চাঁদপুরের নারী ধর্ষনকারী মতলব হোমিও হলের ডাক্তার রফিকুল ইসলামকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। রবিবার সকালে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাঈদ সঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে মতলব হোমিও হলে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুরে হৃদয়ের স্ত্রী মুক্তা (২৬) শারীরিক সমস্যার কারনে গত বৃহস্পতিবার সকালে মতলব হোমিও হলে ডাক্তার রফিক এর কাছে আসে। ওই সময় দোকানে কেউ না থাকায় সুযোগ বুঝে লম্পট রফিক তাকে চিকিৎসার নাম করে ভিতরের রুমে নিয়ে দরজা আটকিয়ে দেয়। সে সুন্দরী মুক্তাকে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করার চেষ্টা চালায়। মুক্তা চিৎকার দিলে রফিক তাকে ছেড়ে দেয়। নিযার্তিত মুক্তা সেখান থেকে বের হয়ে এসে তার আত্মীয় স্বজনকে জানায়। পরে মুক্তা বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় লম্পট রফিক কে আসামী করে শিশু ও নারী র্নিযাতন আইনে মামলা দায়ে করে মামলা নং -৩৩ তারিখ ১৩/৯। লম্পট রফিক গ্রেফতারের পর তার সকল অপকর্ম থলের বিড়ালের মত বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। জানা যায়, গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা হত-দরিদ্র ও প্রবাসীর স্ত্রী এবং সুন্দরী যুবতীরা হোমিও চিকিৎসা নিতে আসলে লম্পট রফিক তাদেরকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বন্ধ কক্ষে নিয়ে ধর্ষন করে। এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় যুবকরা তাকে হাতেনাতে আটক করলে টাকার বিনিময়ে মুক্তি পায়। এছাড়া মাদকের অপর নতুন (আর.এস) নিষিদ্ধ ঘোষিত ঔষধ মতলব হোমিও হলে রেখে মাদক সেবীদের কাছে বিক্রয় করে। মতলব হোমিও হল থেকে (আর.এস) নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করে থাকে। এ মাদক বিক্রির ঘটনা চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসায়ী লম্পট রফিক গ্রেফতার হওয়ায় ভুক্তভুগী মানুষদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার আসামী ডাক্তার রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমি চক্রান্তের শিকার। আমার সাথে একটি পক্ষের জমি সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা চলছিল। আজ রোববার সকালে হঠাৎ করে আমাকে থানায় ওসি সাহেবের সাথে দেখা করতে নিয়ে এসে আমি নারী নির্যাতন আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছি বলে আমাকে জানানো হয়। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।