মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার ৭টি বেইলী ব্রীজই ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিনের পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ এ সব ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারী। যে কোন সময় এসব ব্রীজে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দিনাজপুর সড়ক বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সড়কে অবস্থিত জেলা সদরের সাথে ১৩টি উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছোট-বড় ৩২টি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে বেইলী ব্রীজ রয়েছে ৭টি। এসব বেইলী ব্রীজ হচ্ছে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী সড়কের আমবাড়ী বেইলী ব্রীজ পার্বতীপুর, দিনাজপুর-পার্বতীপুর সড়কের কাঁকড়া বেইলী ব্রীজ চিরিরবন্দর, একই সড়কের আত্রাই বেইলী ব্রীজ সদর উপজেলায়, একই সড়কের অপরটি গাবুরা বেইলী ব্রীজ সদর উপজেলায়, দিনাজপুর-বোচাঞ্জ সড়কের ধুকুরঝাড়ী বেইলী ব্রীজ বিরল, বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ সড়কের কালোপীর বেইলী ব্রীজ বোচাগঞ্জ ও বীরগঞ্জ-কাহারোল সকড়ের কাহারোল বেইলী ব্রীজ কাহারোল। এসব বেইলী ব্রীজের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঝুঁিকপূর্ণ আমবাড়ী বেইলী ব্রীজ, কাঁকড়া বেইলী ব্রীজ, আত্রাই বেইলী ব্রীজ ও গাবুরা বেইলী ব্রীজ। এসব বেইলী ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন জেলার কয়েক লাখ মানুষ চলাচল করে। কিন্তু এ সব ব্রীজ পুরাতন ও ঝুঁিপূর্ণ হওয়ায় কখনও মাল বোঝাই ট্রাকসহ ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ে আবার কখনও সাইকেল, রিক্সা-ভ্যান রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে পানিতে পড়ে যায়। আর এতে দুর্ঘটনায় অনেকবার হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গেলেও পেরে উঠতে পারছে না। দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় ব্রীজগুলি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে ব্রীজগুলো। এছাড়া ব্রীজগুলি সংকীর্ণ হওয়ায় একটির বেশী যানবাহন ব্রীজের উপর উঠতে পারে না। ফলে ব্রীজের দু’ধারে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠে। অনেক সময় মূমূর্ষূ রোগি নিয়ে ব্রীজের দু’পাশে এ্যাম্বলেন্সকে অপেক্ষা করতে হয়। এতে মূমূর্ষূ রোগির অবস্থার আরো অবনতি ঘটে।
যানবাহনের চাপে দুর্বল প্লেট স্টিলবারসহ ব্রীজের অন্যান্য অংশ ভেঙ্গে পড়েছে একাধিকবার। এতে অনেক মানুষ আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দিনাজপুর-পার্বতীপুর সড়কে বেইলী ব্রীজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ সড়কে কাঁকড়া বেইলী ব্রীজটি গত ২ বছর আগে ট্রাকসহ নদীর পানিতে ভেঙ্গে পড়ে, এতে কয়েকজন আহত হয়। ব্যবসার মৌসুমে জেলার বাইরে ধান পাঠাতে না পারলে চাউলের বাজার উর্দ্ধগামী হয়। প্রভাব পড়ে চাউলের বাজারে। ব্রীজের কারণে অনেক সময় মিলে ধান পৌঁছাতে পারে না। এ সময় কৃষকের বাড়িতে ধান নষ্ট হয়ে যায়। এতে সাধারণ কৃষকদের লোকসানের অংক গুণতে হয়, প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
জেলার পার্বতীপুর ও চিরিরবন্দর উপজেলায় দেশের সবচেয়ে উৎকৃষ্টমানের ধান উৎপাদন হওয়ায় এই সড়কটি ধান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ব্রীজগুলো সংস্কারের ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
দিনাজপুরের ৭টি বেইলী ব্রীজ জেলার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৪০-৪৫ লাখ মানুষের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বেইলী ব্রীজগুলিকে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী আরসিসি ব্রীজে রূপান্তরিত করবে এমনটি প্রত্যাশা করে দিনাজপুরবাসী।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, দিনাজপুরে বেইলী ব্রীজ যখনই প্রয়োজন পড়ে তখনই মেরামত করা হয়। কোন দূর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমরা ব্রীজ মেরামত করার ব্যবস্থা করি। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বেইলী ব্রীজ মেরামত বাবদ প্রায় লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে বেইলী ব্রীজের এক্সট্রা পার্টস না থাকায় দুর্ঘটনা কবলিত ব্রীজগুলি তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এদিকে দিনাজপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডি কানাই চন্দ্র দেবনাথ জানান, ইতোমধ্যে দিনাজপুর সড়ক বিভাগের অধীনে ৭টি মধ্যে ৫টি বেইলী ব্রীজ ও একটি পুরাতন ব্রীজ স্থায়ীভাবে নির্মানের জন্য জাপান সরকারের সহায়তাপুষ্ট প্রতিষ্ঠান “জাইকা” কে প্রদান করা হয়েছে। তারা অচিরেই এই ৫টি ব্রীজ নির্মাণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।