ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: তিস্তা নদীর চরে বসবাসকৃত এক সাংবাদিক পরিবারের বসতভিটা ও আবাদী জমি দখলের নিতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পুর্বছাতনাই তিস্তার চরে এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ডিমলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র মতে, দীর্ঘদিন আগে তিস্তা নদীতে বিলিন হয় পূর্ব ছাতনাইচর। গত ৩ বছর আগে চরটি জেগে উঠলে পৈতিক সম্পক্তি হিসাবে মৃত আজিজার রহমানের ছেলে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার ডিমলা প্রতিনিধি আনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) চরের ৬ একর ২৩ শতক জমিতে বসতভিটা গড়ে তুলে বসবাস ও ফসল আবাদ করে আসছিল। সম্প্রতিকালে ওই জমি দাবি করে ডিমলা উপজেলা শহরের সর্দারহাট গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের পুত্র ফজলুল হক(৫০)। এ নিয়ে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিষয়টি ফায়সালা হয়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ফজলুল হকের নেতৃত্বে তার অর্ধশতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোডা নিয়ে ওই চরের বসবাসকৃত সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলামের বসতভিটায় হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ২ ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলামের বাড়ির আসবাবপত্র, ঘরের টিন খুলে লুটপাট চালায় এবং ৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে আনোয়ারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হোসনে আরা(৩৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), মুক্তিযোদ্ধা সামছুল ইসলাম(৬০), ফরিদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী কামনা আক্তার পারুল(২৮), রহিমা বেগম(৪২), ওবায়দুর রহমান (৩০) সহ আটজন কে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হোসনে আরার(৩৫) অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার সফিউল আলম।