সিসি নিউজ: সৈয়দপুরের ইসমাঈল বীজ হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৩য়) বিচারিক আদালত নীলফামারীর বিচারক গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই আদেশ জারি করেন। গত বছর অক্টোবরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সরকারী প্রত্যয়নকৃত বীজআলু নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এনে সজীব সীডস্ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ ও হিমাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিচার চেয়ে দায়েরকৃত মামলায় এ আদেশ জারি করে আদালত।
সূত্রমতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং কর্তৃক ইস্যুকৃত সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ সজীব সীডস্ বীজ ডিলার নিবন্ধনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। কৃষি মন্ত্রণালয়ধীন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী নীলফামারীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্লান্টলেট থেকে টিস্যুকালচার পদ্ধতির মাধ্যমে এবং ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট হতে ব্রীডার মানের ধানবীজ সংগ্রহ করে তা ভিত্তিমানের ধানবীজ ও আলুবীজ দীর্ঘ ৮বছর ধরে বাজারজাত করে আসছে। সজীব সীডস্’র স্বত্ত্বাধিকারী আহসান-উল হক বাবু সিসিনিউজকে জানান, গত ২০১৩ সালে ১০৩.৬৫ মেঃ টন ভিত্তি বীজআলু এবং মানঘোষিত মানের কার্ডিনাল ১৯ মেঃ টন, ডায়ামন্ট ১৩ মেঃ টন ও গ্রানোলা ১২.৮৫ মেঃ টন বীজআলু উৎপাদনত্তোর সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন কামারপুকুরস্থ ইসমাঈল বীজ হিমাগারে সংরক্ষণ করি। ওই বছর ২ জুলাই বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর আঞ্চলিক বহিরাঙ্গণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও জেলা বীজ প্রত্যয়ণ এজেন্সীর বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা মঞ্জু আলম সরকার ওই হিমাগারে সংরক্ষিত ভিত্তিশ্রেনীর ১০৩.৬৫ মেঃ টন বীজ আলু পরিদর্শন করে ৩৭.৪ মেঃ টন কার্ডিনাল জাতের বীজআলু বাজারজাত করণের চার মাস পূর্বে অংকুরিত হয়েছে দেখতে পান। ফলে ওই জাতের পুরো ৩৭.৪ মেঃ টন বীজআলুর প্রত্যয়ণ বাতিল করেন এবং সেই সাথে হিমাগার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই বীজ প্রত্যয়ণ এজেন্সীর সদর দপ্তরের প্রধান মাঠ কর্মকর্তা আবু ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে আঞ্চলিক বহিরাঙ্গণ কর্মকর্তা ও জেলা বীজ প্রত্যয়ণ এজেন্সী বহিরাঙ্গণ কর্মকর্তা হিমাগারে পুনরায় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে অবশিষ্ট ৬৬.১৫ মেঃ টন ভিত্তি বীজআলু অংকুরিত দেখতে পান। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই হিমাগারে সজীব সীডস্’র সংরক্ষিত সমুদয় ১০৩.৬৫ মেঃ টন ভিত্তি শ্রেনীর বীজআলুর প্রত্যয়ণ বাতিল করেন। এতে বর্তমান বাজার মূল্যে সজীব সীডস্’র সাড়ে ৫২ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি সূত্র জানায়, ইসমাইল বীজ হিমাগার লিমিটেড মূলতঃ বীজ সংরক্ষনের কথা থাকলেও বর্তমানে ওই হিমাগারে বিভিন্ন ফলমূল, শাকসবজি সংরক্ষন করা হচ্ছে। এমনকি মাছ সংরক্ষন করা হবে মর্মে স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। যা রীতিমতো প্রতারণার শামিল।
বাজারজাত করার পূর্বে বীজআলু অংকুরিত হওয়া প্রসঙ্গে নীলফামারী জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা মঞ্জু আলম সরকার সিসিনিউজকে বলেন, সজীব সীডস্’র বীজআলু মাঠ পর্যায়ে তিনবার পরিদর্শন করা হয়েছে এবং গুণগত মান সঠিক থাকায় তা বীজ হিমাগারে সংরক্ষনের প্রত্যয়ণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই হিমাগারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধণকৃত আর কোন বীজআলু সংরক্ষণ করা হয়নি, তাই হিমাগার কর্তৃপক্ষের যুক্তি ভিত্তিহীণ। তিনি বলেন, হিমাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলা কিংবা অব্যবস্থাপনার জন্য ওই বীজআলুতে কাঙ্খিত তাপমাত্রা ও আদ্রতা না পাওয়ায় নিশ্চিত এ ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে প্রতারণা শিকার সজীব সিডস’র স্বত্ত্বাধিকারি আহসান-উল হক বাবু নিজে বাদী হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ ও হিমাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিচার চেয়ে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত নীলফামারীতে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর তারিখে দায়েরকৃত ওই মামলায় ইসমাঈল বীজ হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মাহফুজ আলম, ম্যানেজার ওবায়দুর রহমান, ফোরম্যান আবুল কালাম ও আলু সংগ্রাহক জাকির হোসেনকে বিবাদী করা হয়। ওই মামলায় বিবাদীগণ ২৪ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেয়। পরবর্তীতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৩য়) বিচারিক আদালতে বিচারকার্য শুরু হয়। এ সময় মামলার প্রধান বিবাদী হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মাহফুজ আলম একাধিকবার আদালতে উপস্থিত না থাকার কারণে গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালতের বিচারক মূল বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং বিবাদীদের অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য সম্পাদনের আদেশ জারি করেন।