এম আর মহসিন, সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউপির যানের পাড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া খড়খড়িয়া নদীতে সেতু না থাকায় চরম দূর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসিকে। শুকনো মৌসুমে সাকো ছাড়া নদী পাড় হওয়া গেলেও বর্ষাকালে এর কষ্টে চরমে পৌছে। একটি বাঁশের ওপর দিয়ে শতাধিক মিটার দুরত্ব অতিক্রমে প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটে। এতে শহরের স্কুল-কলেজ যাতায়াতে শিক্ষার্থি, চিকিৎসার্থে রোগি, ব্যাবসা কিংবা কৃষি পণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজারগামিদের সাকোঁর অভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। আর অব্যাহত মৌল অধিকার বঞ্চনার শিকার হলেও সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে নজর না দেয়ায় এ জনপদসহ পার্শ্ববতি এলাকার লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ছোয়া স্পর্শ করেনি। অগ্রাধিকার ভিক্তিতে বঞ্চিতরা সরকারসহ সংশ্লিষ্টিদের কাছে দ্রুত এ সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহষ্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার এ ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর এলাকার তেলিপাড়া, কাঙ্গালপাড়া, পাঠানপাড়া, বালাপাড়া, প্রামানিকপাড়া উপর দিয়ে খড়খড়িয়া নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর এ সকল এলাকার মানুষজন নদী পারাপারে একটি বাশেঁর সাকো দিয়ে চলাচল করায় মূলত এ উপজেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষা গ্রহনে শহরমুখি স্কুল-কলেজে যেতে ক্ষুদে ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থিরা নদী পারাপারের সময় পড়ে গিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। আবার চিকিৎসা গ্রহনের একমাত্র ১০০ হাসপাতালটি শহরের মধ্যে হওয়ায় অসুস্থ্য ব্যাক্তিকে নিয়ে চরম কষ্টে পড়তে হয় পরিবারের সদস্যদের। রিক্সা কিংবা সাইকেল পারাপারের ব্যাবস্থা না থাকায় রোগিকে কাঁধে করে সাঁতার দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয় শহরমুখি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে। এছাড়া এর কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মুল্য থেকেও বঞ্চিত থাকেন। ব্যবসায়িরা মালামাল কিনে সময় মত পৌছতে পারেন না হাট-বাজারে। তাই এখানেও লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছেন নদীর ওপারের মানুষেরা। এ সেতু না থাকার কারণে তাদের জীবনে অনেক অপ্রাপ্তির কারনে দিন-দিন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। আব্দুল হাই নামে নদী সংলগ্ন এলাকাবাসি জানান, সেতুর অভাবে মালামাল নিয়ে পার হওয়া খুবই সমস্যা। এ ছাড়া বর্ষার সময় হাট-বাজারে যাতয়াত করা খুবই ঝুকিপূর্ণ। প্রায়ই বন্ধই থাকে শহরের সাথে যোগাযোগ। একই অভিযোগ করেন জলিল নামের এক নদী ওপারের এলাকাবাসি। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে অব্যাহত বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বেয়ে আসা পানিতে এ নদীতে বন্যা হয়। এ সময় বোতলাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র পারপারের সময় পানিতে পড়ে যায়। পরে কয়েকজন পথচারি মিলে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে। আর এ অবস্থা শুধু এখন কার নয় । এটা প্রতি বছরের চিত্র। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এ কষ্ট যেন সরকারের কাছ থেকে আমাদের পাওনা। এ দিকে এলাকাবাসি জানান, নির্বাচন আসলে প্রাথিদের শুধু এ সেতুটি নিমার্নের প্রতিশ্র“তি দেন প্রাথিরা। পরে চেয়ারম্যান কিংবা সাংসদ হলেও আর এ এলাকায় আসেন না। এ নিয়ে বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর সরকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ ইউনিয়েনের অর্ধেক মানুষ নদীর ওপারে বসবাস করে। তাই এসকল মানুষের স্বার্থে অব্যশই সেতু নির্মানের কথা বলব। নীলফামারী ৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরির সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সেতু নির্মানের মধ্যে দিয়ে এ এলাকার মানুষের স্থায়ি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। তাই এটি অনুমোদনের জন্য আমি চেষ্টা করছি।