• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন |

দিনাজপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় ১২৮ মামলার মধ্যে ৭২টির তদন্ত কাজ সম্পন্ন

dinajpur_mapমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে জেলার ১১টি উপজেলায় দায়েরকৃত ১২৮টি মামলার মধ্যে ৭২টি মামলা তদন্ত সম্পন্ন করে সাড়ে ৩ হাজার বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেছে পুলিশ। অপর ৫৬টি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিঘ্রই এসব মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। দশম জাতীয় সংসদ
দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগষ্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দায়েরকৃত ১২৮টি মামলার মধ্যে ৭২টি মামলার পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করে। অভিযোগপত্রে বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে দেড় হাজার আসামীকে পুলিশ পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ আসামী ইতিমধ্যেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আর ১৫০ আসামী এখনো জেল হাজতে আটক রয়েছে।
চার্জশীটভূক্ত সাড়ে ৩ হাজার আসামীর মধ্যে প্রায় ২ হাজার আসামীকে পলাতক দেখিয়ে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করেছে আদালতে। সূত্রটি জানায়, আদালত থেকে খুব শিঘ্রই পালিয়ে থাকা প্রায় ২ হাজার আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হবে। চার্জশীটভূক্ত এসব মামলার মধ্যে দিনাজপুর সদরে ৬টি, বীরগঞ্জে ৭টি, খানসামায় ৯টি, চিরিরবন্দরে ১১টি, পার্বতীপুরে ৫টি, ফুলবাড়ীতে ৩টি, বিরামপুরে ৬টি, নবাবগঞ্জে ৮টি, ঘোড়াঘাটে ৯টি, হাকিমপুরে ২টি ও কাহারোলে ৬টি মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
উলে¬খ্য, গত ৫ জানুয়ারীর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দিনাজপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ১১টি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ভোটদানে বাধা, সংখ্যালঘুদের হুমকি এবং নির্বাচনের পক্ষের লোকজনের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে ১২৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ১ হাজার ২২৬ জন বিএনপি, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ হাজার ৩শ উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীকে মামলার আসামী করা হয়। দায়েরকৃত মামলার বাদীরা হলেন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য।
সহিংস ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও চিত্র দেখে আসামীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে বেসরকারী স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি। জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুশৃঙ্খলভাবে আসামীদের শনাক্ত ও  গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চালানোর কারণে সহিংস ঘটনা অনেকাংশই কমে গেছে বলে সূত্র জানায়।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন জানান, ১১টি উপজেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার আসামীকে গ্রেফতার করলেও আদালতে জামিন নিয়ে সাড়ে ১ হাজার ৩শ নেতাকর্মী মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে আটক রয়েছেন আরো ১৫০ জন। এসব আসামীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ