ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক মাদকসেবী ধরা পড়লেও ধরা পড়ছে না মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত মূল হোতারা। ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন ভাবে অভিযান চালিয়ে ছোট খাটো মাদক সেবীকে ধরলেও ধরা পড়ছে না মাদক ব্যবসায়ীরা। আড়ালে থেকে যাচ্ছে এর সাথে জড়িত গডফাদাররা। এর ফলে স্কুল কলেজ পড়–য়া স্কুল ছাত্র-ছাত্রী, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা ও যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ক্রমান্বয়ে ধাবিত হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দিন দিন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। তারা ভাবছে কিভাবে এই সমস্যাটিকে দুর করা যায়। এখন অভিভাবকদের এমন পরিস্থিতি হয়ে দাড়িয়েছে যে, ছেলে-মেয়ে বাড়ী থেকে বের হলে তাদেরকে ভয়ের সঞ্চার ঘটছে । আমার ছেলে বা মেয়ে কি করছে বা কি ঘটছে। এমনি অনিশ্চিয়তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ সকল পেশাজীবী মানুষ । নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েক জন অভিভাবক বলেন, পৌর শহরের ষ্টেশন এলাকায় সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উঠতি বয়সের ছেলে থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী যুবকেরা মোটর সাইকেল ভিড় জমায়। তারা আরও জানান, ষ্টেশন এলাকায় গাঁজা, মদ, চোয়ানী, ফেন্সিডিল, হিরোইন দেধারচ্ছে বিক্রি করছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে উল্টা ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলায় জড়িয়ে দিবে। ষ্টেশনের পূর্ব দিকে একটু এগিয়ে গেলে কয়েকটি বাড়ী দেখা যায়। সে বাড়ীগুলোতে দিন দুপুরে জুয়া ও মদের আসর বসে থাকে। আরও দেখা যায় ষ্টেশন প্লার্টফর্মে পকেটে করে ভ্রাম্যমান ফেন্সিডিল বিক্রি হচ্ছে। এমনি দৃশ্য দেখেও যেন কেউ দেখছে না। আসলে এরা কে বা কাহারা, কাদের জোরে বা কোন পেশীর শক্তির বলে এরা মাদক ওপেন বিক্রি করছে। আর এই মাদক বন্ধ তো দুরের কথা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর সীমান্ত ঘেষা এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কয়া, কড়িয়া, আটাপাড়া, বাসুদেবপুর, মংলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন সীমান্ত রক্ষীদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী সীমান্তের ওপার থেকে চোরাপথে ভারতীয় বিভিন্ন মাদক আসায় এই এলাকায় মাদকের ব্যবসা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের ভয়াল গ্রাসে উঠতি বয়সের যুবকেরা ঝুকে পড়ছে। আরও এই যুবকেরা নেশার টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধের সাথে। ফলে দিনাজপুর আদালত পাড়ায় অর্ধেকেই মাদকের মামলার সাথে জড়িত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন মাদক প্রতিরোধ বন্ধকল্পে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবী ধরলেও ধরতে পারছে না মাদক ব্যবসায়ীর গডফাদারদের।
এদিকে অনেক অভিভাবক দুঃখ করে বলেন, একটি দেশ বা জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে হবে। এদেশের মেধাবী যুব সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রীকে নেশায় আসক্ত হলে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া বিভিন্ন মহল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।