রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩ দিনের টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির রোপা-আমন, ১৫ হেক্টর জমির সবজি, দু’শতাদিক পুকুর তলিয়ে প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে অত্র উপজেলায় ৫ শতাধিক বসতবাড়ী পানিবন্দী হয়ে পড়াসহ হরিশ্বর তালুক উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণে ৮শ’ ৯০ হেক্টর জমির রোপা-আমন, ১০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত, দু’শতাধিক পুকুরের প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়াসহ ২৫০টি পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টী চন্দ্র রায় বলেন, আগামী দু’একদিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে ওইসব ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে এবং গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলায় ২৯৫ মি. মি. বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজারহাট সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, গত তিন দিনের টানা বর্ষনে রাজারহাট ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে এবং হরিশ্বর তালুকসহ কয়েকটি স্থানে শতাধিক পুকুরের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষের মাঝে আবারও আতংক দেখা দিয়েছে। এদিকে বর্ষণের ফলে উপজেলা সদর বাজারটি জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ২৫০টি পানি বন্দী পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছি এবং রাজারহাট বাজারের জলাবদ্ধতার জন্য মূলতঃ ব্যবসায়ীরা দায়ী। কারণ পানি নিস্কাশনের ড্রেনগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ড্রেনগুলো বন্ধ না করলে এ সমস্যা হতো না বলে তিনি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমান উপজেলা সদর বাজারটির চারপাশের রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। অথচ প্রতি বছর বাজারটি সংস্কারকল্পে এডিপি’র লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা মেরামতের নামে ব্যয় করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ। আর কতদিন এ অবস্থা চলবে এ প্রশ্ন ভুক্তভোগী জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের?