লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বামনের বাসা এলাকায় অজ্ঞাত রোগে পল্লী চিকিৎসকসহ একই পরিবারের ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার রাতে রোগীদের দেখতে ঘটনাস্থলে যান দুই সদস্যের একটি মেডিকেল টিম। উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপাট বামনের বাসা এলাকার স্কুলশিক্ষক আবু সাঈদ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থরা হলেন ওই বাড়ির প্রধান কর্তা চন্দনপাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ (৪২), তার স্ত্রী রওশনারা বেগম (৩৮), কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাফিউল ইসলাম সবুজ (১৮), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে শারমিনা আক্তার ইতি (১২), ছোট ছেলে জুনাইদ (১), বোন রাজিয়া সুলতানা (৩৫), শ্যালিকা সুলতানা (৩০), ভাগ্নি তাসলিমা তমা (৮), ভাইপো সামিউল ইসলাম (২৮) ও তার স্ত্রী চায়না বেগম (২৫) ও ছেলে আল নাহিদ (৫) এবং ওই এলাকার পল্লী চিকিৎসক হরেন্দ্র নাথ (৪০)।
এলাকাবাসী ও ওই পরিবারের লোকজন জানান, সোমবার বিকালে হঠাৎ মাথা ব্যাথা ও জ্বর অনুভব করেন স্কুলশিক্ষক আবু সাঈদের স্ত্রী রওশনারা বেগম (৩৫)। রাতে প্রচণ্ড ঘুম পায় তার। এ ঘুমের চাপে চোখ খুলতে পারছেন না।
পরদিন সকালে ওই শিক্ষক আবু সাঈদ নিজে ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাফিউল ইসলাম সবুজ (১৮) এবং মেয়ে শামিমা আক্তার ইতি (১২) একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার খবর পেয়ে আত্মীয় স্বজন তাদের দেখতে এলে পর্যায়ে ক্রমে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকলের একই সমস্যা মাথা ব্যাথা, জ্বর জ্বর ভাব, শরীর দুর্বল, অসংলগ্ন কথা, প্রচণ্ড ঘুম।
অসুস্থদের চিকিৎসা দিতে আসা ওই এলাকার পল্লী চিকিৎসক হরেন্দ্র নাথ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পর থেকে স্থানীয়রা ভয়ে ওই বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা চিকিৎসার অভাবে ঘুমের ঘোরে সবাই পড়ে আছেন নিজ নিজ বিছানায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা শুক্রবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় হাসপাতালে জানালে আদিতমারী উপজেলা স্থাস্থ্য পরিদর্শক মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম ওই বাড়িতে যান। তারাও এখন পর্যন্ত রোগের নাম বা কারণ নির্নয় করতে পারেননি।
চিকিৎসক টিমের প্রধান আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাহাবুব আলম বলেন, “এ রোগের নাম কিংবা কারণ এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে সকল রোগীকে নিরাপদের সহিত আদিতমারী হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।”
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনে চিকিৎসক টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন বলেন, “রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাদের না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।” রোগী দেখতে তিনি নিজেও হাসপাতালে যাচ্ছেন বলে জানান।