• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন |

বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক স্থাপন ছিল হামদানের টার্গেট, দাবি পুলিশের

image_100269_0ঢাকা : বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বৃটিশ নাগরিক সামিয়ুন রহমান ওরফে হামদান বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে কাজ করছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। রোববার রাত সোয়া ১১টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে তাকে গ্রেফতার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম । তিনি দাবি করেন, “সম্প্রতি আল কায়দার নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি কর্তৃক ঘোষিত আল কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কনটিনেন্ট (একিউআইএস)-এর বাংলাদেশ ও মায়ানমার এ জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করাই তার (হামদান) উদ্দেশ্য ছিল।”
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, হামদান সিরিয়া ফ্রন্টে সশস্ত্র জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষে আইএস ও নুসরা বিগ্রেডের জন্য ‍মুজাহিদ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশে এসেছে।  তিনি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় নুসরা বিগ্রেডের সদস্য হয়ে জিহাদি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। এই কার্যক্রমে অংশ নিতে এক বন্ধুসহ তিনি বৃটেন থেকে তুরষ্ক হয়ে সিরিয়া যান। জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সক্ষম যুবক সংগ্রহের জন্য ইতিপূর্বে মোরতানিয়া ও মরোক্ক ভ্রমণ করেছে।”
ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “পিস টিভির উপস্থাপক এনথনির ফেসবুক ফ্যান পেইজের সূত্র ধরে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় জিহাদে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিক আসিফ আদনান ওরফে ঝুলকান নাইনের সঙ্গে হামদানের পরিচয় হয়। বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় মোজাহিদ পাঠানোর জন্য গত ফ্রেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি বাংলাদেশে আসেন।”
ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত আসিফ, তানজিল নকি ও নাহিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিরিয়ায় একটি জিহাদি টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করে বলে জানান মনিরুল।
তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃতদের উদ্দেশ্যে ছিল সিরিয়ায় জিহাদি কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ও মায়ানমারে আলকায়দা ভারত উপমহাদেশে আলকায়দার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক স্থাপন। এ সংক্রান্ত তাদের যোগাযোগ সম্পক্তি বেশ কিছু ক্ষুদে বার্তা মামলার আলামত হিসেবে খুঁজে বের করা হয়েছে।”
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ আসিফ আদনান ওরফে  জুলকারনাইন ও ফজলে এলাহী তানজিলকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যমতে হামদানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মনিরুল ইসলাম বলেন, “হামদান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে আসিফ, জাবের, আবু নায়না, আবদুল করিম ও আবদুল্লাহ তার সহযোগী ছিল। বাংলাদেশে ইসলামি শরীয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাও তার লক্ষ ছিল। হামদান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বৃটেনের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। পাঁচ বছর আগেও সে একজন বখাটে যুবক ছিল। এ কারণে জেলেও যেতে হয়েছে তাকে। সেখান থেকে বের হয়ে আলোর সন্ধান পায় বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। হামদান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও আরবিতে তার বেশ দক্ষতা রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর ও পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, দক্ষিন বিভাগের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ