মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় সেতাবগঞ্জ চিনিকলের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ দখল করেছে ভূমিদস্যুরা। তারা চিনিকলের মুল্যবান জমি দখলের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ ভূমি উদ্ধারে আশানুরুপ সহযোগিতা পাচ্ছে না।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, সেতাবগঞ্জ চিনিকলের সবচেয়ে বড় খামার হলো কান্তা খামার। এই খামারের অবস্থান দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সড়কের দশ মাইল নামক স্থানে। এলাকাটি জেলা শহরের নিকটবর্তী বানিজ্যিকভাবে অতিব গুরুত্বপূর্ণ। এই খামারে বিভিন্ন স্থাপনাসহ মোট জমি আছে ১ হাজার ৩২১ একর ৩৫ শতক। এই কামার ২টি ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ সাদীপুর সেকশন। এই সেকশনের সর্বমোট ২ একর ৮৯ শতক জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে ভুমি দুস্যরা। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এই দখল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে সেতাবগঞ্জ চিনিকল কর্তৃপক্ষ চলতি ২০১৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ভুমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসককে পত্র দ্বারা অবহিত করে এর প্রতিকার চায়। প্রতিউত্তরে জেলা প্রশাসক মিলের কাছে বিভিন্ন প্রকার কাগজপত্র চায়। মিল তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কাগজপত্র দাখিল করে। এরপরেও ভুমি দখলকারীরা থেমে থাকেনি। এক সময় তারা স্থাপনা নির্মান শুরু করে। বর্তমানে ওই দখল প্রক্রিয়া এমন পর্যায়ে গেছে যে, চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজ জমিতে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।
অনুসদ্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলামের নেতৃত্বে রুহুল আমিন (দুলু), রনজিৎ কুমার (মিরু), আব্দুল মোতালেব, শফিকুল ইসলাম, জিয়ারুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মজিবর রহমান, আতিকুর রহমান, নুরুল হুদা, মোঃ শাহজাহান, একরামুল হক, উল কুমার, রিয়াজুল হক, পুর্ন চন্দ্র রায়, শক্তি কুমার রায়, অহিদুল হক, দুলু মিয়া, আবু তালেব, আমিন, মোঃ গাজী, সাহিন হাসান, মিজান, আলতাফ, মনির হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই জমি দখল করেছে।
চিনি কলের পক্ষ কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভূমি উদ্ধারে সহযোগিতা চাইলে তিনি জানান, ওই জমি পেরিফেরির আওতায় নিয়ে সেখানে হাট বসানো হবে। সরকারী এই মুল্যবান জমি বেদখল হওয়ায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ বেকায়দায় পড়েছে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের জমি উদ্ধারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।