চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় আমন ক্ষেতে গোড়া পঁচা ও পাতা মোড়নো রোগের আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি অফিসারদের দেখা মিলছে না মাঠে। একাধিকবার কীটনাশক স্প্রে করেও কোন ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫১৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৮১৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড ৫ হাজার ৬৫ ও উফশী ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উচুঁ জমিতে আগাম বিভিন্ন প্রজাতির ধানের চাষ করা হয়েছে।
নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর বাকালী পাড়ার কৃষক জুয়েল রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৬ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করছি। এর মধ্যে আড়াই বিঘা হাইব্রীড ও সাড়ে ১৩ বিঘা স্থানীয় জাতের। কিন্তু হাইব্রীড জাতের চারাগুলোতে গোড়া পঁচা আক্রমণ করেছে বেশি। কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করেও কোন ফল হয়নি। তিনি আরও জানান, ফসল ক্ষেতে কোন রোগের আক্রমণ হলে সহজে কৃষি অফিসারদের দেখা পাওয়া যায় না।
কিসমত ফতেজংপুর গ্রামের কৃষক বেশারত আলী (৫৮) জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। রোপণের পরে অনাবৃষ্টির কারণে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি সরবরাহ করে এবং আকাশের পানি পেয়ে চারাগুলো বেশ বেড়ে উঠে ছিল। হঠাৎ গোড়া পঁচা রোগ আক্রমণ করে ধান গাছের পাতা হলুদ রং ধারণ করেছে। কীটনাশক বিক্রেতা পরামর্শে কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করেছেন, তাতেও কোন ফল পাচ্ছেন না।
উত্তর পলাশবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান মন্ডল (৩২) জানান, তার দুই বিঘা জমির সব আমন ক্ষেতে গোড়া পঁচা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। প্রথমে চারাগুলোর রং পরিবর্তন হচ্ছে এবং নিচের অংশ পঁচে যাচ্ছে। একবুক আশা নিয়ে আমন চাষ করলেও গোড়া পঁচা রোগের আক্রমণে আশায় গুড়েবালি পড়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার মহন্তর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, চাষিরা কিছু কিছু ইন্ডিয়ান জাতের ধান রোপন করেছে। ওইসব ধানক্ষেতে এ রোগের আক্রমণ হয়েছে। তবে কীটনাশক স্প্রে করলে সেরে যাবে।