নীলফামারী প্রতিনিধি: কোরোসিনের আগুনে পুড়ে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শৈলেন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী দিপালী রানী রায়(২৬)।
শনিবার মধ্যরাতে দিপালীকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে নিজ শরীরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারছে না কেউ।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গুরুত্বর অবস্থায় দিপালীকে ভর্তি করা হলে তাৎক্ষনিক ভাবে রমেকে স্থানান্তরিত করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) ডাঃ অনুপ কুমার রায় জানান, গৃহবধুর শরীর ৯০ভাগ পুড়ে গেছে। তার চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সুত্র জানায়, দুই সন্তানের জননী দিপালিকে প্রায় ১২বছর আগে বিয়ে করেন ডিমলা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শৈলেন চন্দ্র রায়। বিয়ের পর আপন শ্যালিকা সোনালী রাণী রায়ের সাথে সম্পর্কের জেরে চুপিসারে বিয়ে করে সাত মাস আগে নিজ বাড়িতে তুলেন শৈলেন। সৃষ্টি হয় দাম্পত্য কলহ। দুই বোনের মধ্যে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। এরই মধ্যে শনিবার মধ্যরাতে কেরোসিনের আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিবারের লোকজন তাৎক্ষনিক ভাবে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালেও সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় দিপালীকে। তবে মুঠোফোনে যুবলীগ সভাপতি শৈলেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগটি কেটে দেন।
তবে ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য বাবু কৃষ্ণ কান্তি রায় গ্রাম পুলিশের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার সময় দিপালী একই বাড়িতে থাকা স্বামী ও ছোট বোন সোনালীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন। রোববার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে কোন খবর নেই বলে জানিয়েছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শওকত আলী।