এস এস হাসান মন্ডল, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট সদর হাসপাতলের হিমঘর থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুদ পাটগ্রাম উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ১৬ নং ভোটবাড়ী ছিটমহলের বাসিন্দা সেলিনা বেগমের(২৫) লাশ অবশেষে ১৮দিন পর ভারতেই ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের এক পতাকা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সফিউল আলম শফি। তিনি আরো জানান, ভারতের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ১৬ নং ভোটবাড়ী ছিটমহলের বাসিন্দা রুবেল হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার সকাল ৯টায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ সেলিনার লাশ কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে ওই দিনই লাশ নিহতের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ পতাকা বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জে ছিংছং। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সফিউল আলম শফি।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাটগ্রাম থানার ওসি আমিরুজ্জামান, বুড়িমারী বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার শামসুজ্জামান, চ্যাংরাবান্ধা বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পলাশ বড়–য়া, মেখলিগঞ্জ থানার ওসি বায়োজিত মজুমদার।
পাটগ্রাম থানা পুলিশ ও বিজিবি জানায়, গত শনিবার(২৭-সেপ্টম্বর) দিবাগত রাত ২টায় নিজঘরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় সেলিনা বেগমকে। নিহতের চিৎকারে দুই ছেলে ঘুম থেকে জেগে মায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে কান্নাকাটি করতে থাকে। ছেলেদের আর্তচিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়ে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে দেখতে পান সেলিনার তলপেটে ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। অবস্থা খারাপ দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থানায় ও বিজিবিকে খবর দেয়। কিন্তু ঘটনাস্থল ভারতীয় ছিটমহলে হওয়ায় সেখানে পুলিশ ও বিজিবি যায়নি। প্রায় ১৬ ঘন্টা ওই বাড়িতেই সেলিনার লাশ পড়ে থাকে। এক পর্যায়ে বিজিবি গেলেও কোনো ফয়সালা হয়নি। ওইদিনই পরে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়। এতেও কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা লাশ উদ্ধার করে পাটগ্রাম থানায় এনে দেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই থানা পুলিশ পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হককে উপস্থিত রেখে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশের ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এতে আপত্তি জানালে লাশের ময়না তদন্ত স্থগিত রেখে হিমঘরে লাশটি রাখায় হয়। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে। অবশেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুই দেশের পতাকা বৈঠক শেষে সির্দ্ধান্ত হয় আগামীকাল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ১৬ নং ভোটবাড়ী ছিটমহলের বাসিন্দা সেলিনা বেগমের লাশ ১৮ দিন পর ভারতেই ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেলিনা বেগমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বুধবার সকালে ভারতে পাঠানো হবে। এ সময় ভারতীয় কুচবিহার জেলা পুলিশ প্রশাসনের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ১৬ নং ভোটবাড়ী ছিটমহলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করারও কথা রয়েছে।’