রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: পেশাগত কাজে বুধবার যাচ্ছিলাম পার্বতীপুর শহর থেকে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হরিরামপুর শাহপাড়া নমক স্থানে পৌছাতেই দেখি সড়কের পাশে অনেক মানুষের জটলা। একটি আম গাছকে ঘিরে আছে সবাই। কৌতহল বসতঃ গাছের কাছে গিয়ে দেখি একটি ছোট্ট শিশুকে(১২) গাছে রশি দিয়ে হাত মোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছে। উৎসুক গ্রামবাসী যে যার মতো করে এলোপাথাড়ি ভাবে মারধর করছে ওই শিশুটিকে। শিশুটির আর্তনাদে মন গলছেনা কারোই। গ্রামবাসীর অভিযোগ ওই বালক দিনের বেলায় এক বাড়ীতে চুরি করতে ঢুকে ছিল। এ কারনে তাকে গাছে বেঁধে রেখে মারধর করা হচেছ। পরে শিশুটিকে সুলতানের বাড়ীতে শালিসের জন্য ঘরে আটকে রাখা হয়। বিকেল ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটি সেখানেই ছিল।উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের শাহপাড়া গ্রামের গৃহকর্তা শাহজাহান আলী জানান, তিনি বাড়ীতে না থাকার কারনে দিনের বেলায় তার বাড়ীতে চুরি করতে ঢুকে ছিল হিন্দু পাড়া গ্রামের রবি রায় ওরফে নেলপুর পুত্র পবিত্র রায়। লোকজন দেখে ফেললে পবিত্র পালিয়ে যেতে থাকে। গ্রামবাসী তাকে আটক করে গাছে বেঁধে রেখে মারধর করে। রাতে শালিস বৈঠক শেষে সিদ্ধান্তের পর ওই বালককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আপাততঃ শিশুটিকে তার ভাই সুলতানের ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবা রবি রায় বলেন, ছোট্ট শিশুটিকে গাছে বেঁধে মারধর করা ঠিক হয়নি। আর এই ছোট্ট বয়সে শিশুটির পক্ষে চুরি করাও সম্ভব নয়। যারা শিশুটিকে মারধর করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলার কোন সাহস না। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিনু জানান তিনি বিষয়টি জানেন না। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, তাকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। অবগত হলে ব্যবস্থা নিব।পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তাকে কেউ অবগত করেনি। একজন শিশুকে চুরির অপরাধে গাছে বেঁধে নির্যাতন গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।