আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলনকারীদের চাপে মদ নিষিদ্ধ পাকিস্তানে। কিন্তু মদ খেয়ে টিভি টকশোতে কথা বলতে এসে বিশ্ব মিডিয়ার আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন পাকিস্তানের হাফিয তাহির আশরাফী। এরইমধ্যে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে মদ মাওলানা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ এবং তার প্রভাব আছে পাকিস্তানের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যেও।
হাফিয তাহির আশরাফী টকশোতে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ইমরান খানের রাজনীতির নীতি-নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপ থাকায় সহজেই তার মানসিক অবস্থা ধরা পরে যায় দর্শকদের কাছে।পাকিস্তানে ইউটিউব নিষিদ্ধ হলেও ভিডিওটি ডেইলি মোশন নামের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিওটিতে দেখা হয় ২৯০০০০ বার। ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে সাড়ে তিন হাজার বারের চেয়েও বেশি।
টুইটারে সাধারণ পাকিস্তানী নাগরিকরা বলছেন, মদ্যপ হয়ে মোল্লারা লাইভ টিভি অনুষ্ঠানে আসছেন। আর পথে আন্দোলন করে মদ নিষিদ্ধ করছেন। পাকিস্তান একটা পাগলের দেশ।
তবে সামাজিক মিডিয়ায় মাওলানা হাফিয তাহির আশরাফীর ভিডিওটি নিয়ে প্রচারকে পরিকল্পিত বলে অভিযোগও করা হচ্ছে। ইমরান খানের সমর্থক ও পিটিআইয়ের কর্মীরা এই ভিডিওটি বেশি শেয়ার করছেন। পাকিস্তানের আরেকজন সুফী ধর্মগুরু তাহির আল কাদরীর অনুসারীরাও মদ্যপ অবস্থায় টিভি টকশোতে অংশগ্রহণের এই ভিডিওটি প্রচার করছেন। এ প্রসঙ্গে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের মুখপাত্র ড.আওয়াব আলভি বলেন, হাফিয তাহির আশরাফী ইসলাম ও রাজনীতিকে একসাথে মিশিয়ে একটি ভজঘট পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। আমরাও সুযোগ পেয়েছি। সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছি।
ভারতীয় উপমহাদেশে কয়েক হাজার বছর ধরে মদ ও মদজাতীয় পানীয় প্রচলিত থাকলেও পাকিস্তানে কয়েক দশক ধরে মদ নিষিদ্ধ। ১৯৭৭ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর শাসনামলে মদজাতীয় পানীয়র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে পাকিস্তানের সকল অভিজাত হোটেলে অমুসলিমদের কাছে মদ বিক্রির বিধান আছে।
মুসলিমদের কাছে মদ বিক্রয় নিষিদ্ধ হলেও, পাকিস্তানের ৯০ ভাগ মদের ভোক্তা মুসলমানরাই। কিন্তু ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্তুষ্ট রাখার জন্যই প্রকাশে মদ বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
২০১০ সালে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, পাকিস্তানে মদ-আসক্ত মানুষের পরিমাণ ১ কোটি। এদের মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে নানান নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়।
পাকিস্তানে মদ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায়, দেশটির নাগরিকদেরকে অবৈধ ও মানহীন মদজাতীয় পানীয় কিনে খেতে হয়। চলতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় নিম্নমানের মদ খেয়ে কমপক্ষে ১৯জন পাকিস্তানি প্রাণ হারান। উৎসঃ নতুনদিন