ঢাকা: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. তাজুল ইসলাম (৩২), মো. সোহেল মিয়া (২৩) ও শ্রী বাবুল চৌধুরী (৪২)। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম।
তিনি বলেন, “গত ১৫ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ ওপেন ইউনির্ভাসিটি’ নামের ফেইসবুক গ্রুপে মো. সোহেল মিয়া নামের এক যুবক তার মোবাইল নম্বর ০১৮১১ ০০৬৩২৪ দিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে। তাতে বলা হয়, বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৩ এর দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার দিন সকাল ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রশ্নপত্র পাওয়া যাবে। পরে এ ঘটনায় বাউবি কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদর দফতরে একটি অভিযোগ দেয়।”
শেখ নাজমুল বলেন, “গত বুধবার সোহেল মিয়াকে বাংলামটর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোহেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তাকে তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে দেয়।”
সোহেল থেকে তথ্য নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ওই তাজুলকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময়ে তার কাছ থেকে এইচএসসি ও বিএএসএস পরীক্ষা প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, “তাজুলের দেয়া তথ্যমতে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের পিয়ন বাবুল চৌধুরী টাকার বিনিময়ে তার কাছে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে। পরে বাবুলকে শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে গ্রেফতার করা হয়।”
গ্রেফতার হওয়া বাবুল চৌধুরীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র রাখার কক্ষ ও স্টিলের আলমারির ডুপ্লিকেট চাবি উদ্ধার করা হয়। বাবুল দীর্ঘদিন যাবৎ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব প্রশ্নপত্র বিক্রি করে আসছিল।
গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-নিয়ন্ত্রক আবদুল কায়উম বাদি হয়ে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ডিএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান ও গোয়েন্দা পুলিশের ঢাকা পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।