• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন |

শাহ আলমকে গুলির কারণ এসআইর পরকীয়া!

95640_1সিসি নিউজ: এসআই আনোয়ার নিজের বউ-বাচ্চাকে রেখে সিএনজি অটোরিকশাচালক শাহ আলমের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিন বছর আগে। আনোয়ারের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার সৈয়ালকান্দিতে। তার বাবার নাম সামসুদ্দিন। স্ত্রী ও পাঁচ বছরের এক কন্যাকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

শাহ আলম একসময় মোহাম্মদপুর থানায় সিভিল টিমের গাড়ি চালাতেন। সেই সূত্র ধরেই এসআই আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয়। ভালো সম্পর্কের সুবাদে শাহ আলমের বাসায় যেতেন আনোয়ার। সে থেকেই শাহ আলমের স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শাহ আলম জানান, ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মোহাম্মদপুর বছিলা এলাকায় চানমিয়ার গলিতে ভিডিও গেমসের ব্যবসা করতেন। ওই সময় শান্তা ইসলাম নুসরাত জাহানের সঙ্গে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। দুই বছর প্রেম করার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দুজনে পালিয়ে এক কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর মোহাম্মদপুরে বছিলা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। শান্তার বাবা জলিল সিটিসেল টেলিফোন কোম্পানির গাড়িচালক। তিনি প্রথমে শান্তার এই বিয়ে মেনে না নিলেও একপর্যায়ে মেনে নেন।

শাহ আলম জানান, সংসার এতদিন ভালোই চলছিলো। ছোট একটি কন্যা সন্তানও আছে তার ঘরে। মাঝখানে এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিলেন এসআই আনোয়ার।

মোহাম্মদপুর থানায় গাড়ি চালানোর সুবাদে এসআই আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয়। এক পর্যায়ে এসআই আনোয়ার শাহ আলমের বাসায় যাওয়া শুরু করেন এমনকি তার অনুপস্থিতিতেও যেতেন। এতে শাহ আলমের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একদিন তিনি এসআই আনোয়ারের পিছু নেন। বাসায় গিয়ে স্ত্রী শান্তা ও এসআই আনোয়ারকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।

এর আগে তিনি অনেক কিছু টের পেলেও তার প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি। যেমন একদিন তিনি মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দেখে ফেলেন। ওতে লেখা ছিলো- ‘জান তুমি খেয়েছো ? তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। আজ রাতে দেখা করবো।’

পঙ্গু হাসপাতালের বেডে শুয়ে শাহ আলম জানান, দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার পর শান্তার সঙ্গে তার টানাপোড়েন শুরু হয়। এর পরই এসআই আনোয়ার ও শান্তার যোগসাজসে তাকে একটি অপেক্ষমান অস্ত্র মামলায় আসামি করা হয়। শাহ আলমের নিজের একটি সিএনজি অটোরিক্সা ছিলো। এ মামলা হওয়ার পর সেটা দখল করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন শান্তা। এক সময় তিনি আনোয়ারের পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এতে একদিন ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম মারধর করেন শান্তাকে। এরপর শান্তা এসআই আনোয়ারের পরামর্শে যৌতুকের মামলা করেন। এ মামলায় শাহ আলম গ্রেফতার হন। এক মাস জেলে থাকার পর জামিনে ছাড়া পান এবং এসে জানতে পারেন, শান্তা তার সংসারে আর ফিরবে না। এক পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলেও শান্তা গড়িমসি শুরু করেন।

দেড় বছর হলো শান্তা মেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন। এ সময়ের মধ্যে শাহ আলম মীমাংসার মাধ্যমে বউ-বাচ্চাকে নিয়ে আসার জন্য অনেক জায়গায় ধর্ণা দিয়েছেন এবং দেন দরবার করেছেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি। এরই মধ্যে শাহ আলম জানতে পারেন, এসআই আনোয়ার ও শান্তা মিলে বছিলা এলাকায় আরশিনগরে একটি ছয়তলা বাসার চারতলা ভাড়া নিয়েছেন। সেখানে তারা দুজনে মিলে থাকেন। শাহ আলম খোঁজ পেয়ে ওই বাসায় যান এবং তাদের দেখতে পান। পরে এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানান।

বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এসআই আনোয়ারের সোর্স সিরাজ গত রোববার রাতে শাহ আলমকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে ডেকে আনেন। এসআই আনোয়ারের স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে একটা মীমাংসা করে দেবেন বলে সিরাজ সে রাতে শাহ আলমকে জানান । রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সরল মনে শাহ আলম সেখানে যান । সিরাজ সেখান থেকে তাকে নিয়ে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের কাছে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন এসআই আনোয়ার। তিনি ও তার সঙ্গের কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেন। কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তিনি বুঝতে না পারলেও ফোনে শুনেছেন, তালতলা ঝিলপাড়।

এসআই আনোয়ার ফোনে বলছিলেন, একটা গামছা দিয়ে চোখ বাঁধা হয়েছে, আরেকটা গামছা নিয়ে আয় মুখ বাঁধার জন্য। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহ আলমের দুই পায়ে পিস্তল ও শটগান দিয়ে গুলি করা হয়। এরপর উল্টো তাকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন

পরে শাহ আলম তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারকে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে গুলির ঘটনা সাজানো নাটক প্রমাণিত হলে এসআই আনোয়ারকে গ্রেফতার ও ওসি আব্দুল মোমেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

বছিলার আরশিনগরে ভাড়া বাসার মালিক ইউসুফ মোল্লা জানান, এসআই আনোয়ার ও শান্তা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন। মাসিক ৮ হাজার টাকা ভাড়া। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল আলাদা। আগে কোথায় ছিলেন- এ প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেছিলেন, আগে মোহাম্মদপুরে ভাড়া বাসায় ছিলেন।

শেরেবাংলা নগর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসআই বলেন, ‘আনোয়ার সাত বছর আগে পুলিশে এসআই পদে চাকরি নেন। এক নাগারে তিন বছর মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব পালন করায় এই এলাকার অপরাধ জগৎ তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার আচার-আচরণও ভালো ছিলো না। শেষ পর্যন্ত তার কারণে একজন ভালো মানের ওসিকে সরে যেতে হলো।’

ওই এসআই আরো বলেন, ‘স্ত্রী তানজিলা ও মেয়ে সোয়ানাকে রেখে তার কি দরকার ছিলো অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করার। পরকিয়ার রেকর্ড ভালো নয়। কোনোভাবেই অপরাধীকে প্রশয় দেওয়া হবে না।’

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা থানার নতুন ওসি গণেষ গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘শাহ আলমের ভাই গোলাম মোস্তফার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এসআই আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি আব্দুল মোমেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত গভীরভাবে চলছে, শেষ হলেই খুব দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।’  উৎস: রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ