• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

নবীনদের বাগাতে কৌশলী প্রচারণায় শিবির

95764_1সিসি নিউজ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদের প্রতিটি আবাসিক হল, ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জিহাদী স্টিকার লাগিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। জিহাদে উৎসাহ দিয়ে ভর্তিচ্ছুদের টার্গেট করে ক্যাম্পাসজুড়ে এসব স্টিকার লাগানো হয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসে শিবিরের নাশকতা প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিবির এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, রাবিতে ছাত্র রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শিবির। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলসহ বেশ কয়েকটি হলে তারা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেকটা গাছাড়া ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে ব্যানার, পোস্টার ও স্টিকার লাগানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানেনি শিবির। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে ভর্তিচ্ছুদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দূর্গ বলে পরিচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসে ছাত্রদের ১১টি হলের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে জিহাদী স্টিকার। আবাসিক হলগুলো ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক ভবন ও সব একাডেমিক ভবনে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে।

কয়েক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের প্রধান গেটের সিঁড়িতে জিহাদী বাণী সংবলিত বিভিন্ন স্টিকার লাগানো হয়েছে। এছাড়াও মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের দেয়ালেও দেখা গেছে এসব স্টিকার।

এসব স্টিকারে জিহাদের ডাক দিয়ে বিভিন্ন বাণী লেখা রয়েছে। এর একটিতে লেখা রয়েছে, ‘জেগে ওঠো জেগে ওঠো শোনো শহীদের ডাক, দিকে দিকে ছড়িয়ে দাও জিহাদের হাঁক’। অপর একটি স্টিকারে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হলো জিহাদ করা’।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে টার্গেট করে গত ১৮ অক্টোবর রাত থেকেই শিবির নেতাকর্মীরা সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব স্টিকার লাগিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং একাডেমিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও তাদের চোখকেও ফাঁকি দিয়েছে শিবির।

ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার সভাপতি সোহরাব হোসেন শিবিরের রাজনীতি বিষেদ্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ছড়াতেই শিবির বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এসব স্টিকারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

তিরি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও প্রশাসন কিছুই বলছে না। অথচ আমরা যদি দলীয় টেন্টে কোনো কার্যক্রম চালাতে যাই তখনই তাদের বাঁধা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহানুর শাকিল বলেন,‘শিবিরের এসব তৎপতার মূল কারণই হলো সকলের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানো। কিন্তু ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শিবিরের স্টিকার লাগানোর ব্যাপারে রাবির সহকারী প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিবির স্টিকার লাগিয়েছে। আমার চোখেও এর কয়েকটি পড়েছে।’ তবে ক্যাম্পাস থেকে এসব স্টিকার উঠিয়ে ফেলার আশ্বাস দেন তিনি।

এ ব্যাপারে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না, খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি এমন বিষয় হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ   বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ