সিসি নিউজ: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে খুশী (১২) নামের এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ মিলেছে। অপরদিকে এ অমানবিক ঘটনার দায় এড়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তিটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মিথ্যা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে থানায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারনে ওই গ্রামে পুলিশি ভয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সূত্রমতে, চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালার গ্রামের তেলীপাড়ার আমিনুল ইসলামের বড় মেয়ে খুশি। জন্ম থেকেই খুশি বহুবিধ প্রতিবন্ধী। গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে পাশের গ্রাম আবু মুক্তিপাড়ার রাজমিস্ত্রী আব্দুল মজিদ (৫০) বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে প্রতিবন্ধী খুশিকে জনৈক দলিল উদ্দিনের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ সময় ওই বাড়ীর লোকজন সাংসারিক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। শ্লীতাহানীর সময় প্রতিবন্ধী খুশি অস্বাভাবিক আত্মচিৎকার শুনে পাশের বাড়ীর গৃহবধু হামিদা ঘটনাস্থলে এসে শ্লীলতাহানীর ঘটনা দেখতে পেয়ে চিৎকার করে। ওই সময় মজিদ দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য আকরাম আলী ও সামসুল হকের মধ্যস্ততা গ্রামে একটি শালিসী বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত গ্রামবাসীর মধ্যে হাবিবুর, মোবারক ও ফজল জানায়, শ্লীলতাহানীল ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ স্বীকার করলে ইউপি সদস্য আকরাম আলী শালিসী বৈঠকে মজিদকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে মজিদ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে সু কৌশলে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে বৈঠক থেকে তাকে সরিয়ে দেয় এবং ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রবাহিত করার জন্য মজিদের বোন ও স্ত্রীকে বাদি করে উল্টো প্রতিবন্ধী কিশোরীসহ গ্রামের লোকজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
গত শনিবার সরেজমিনে ওই গ্রামে দিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী খুশি অপরিচিত লোকজন দেখলে এক অজানা আতঙ্কে বাবা-মায়ের বুকে মুখ লুকাতে চেষ্টা করছে। তার বাবা আমিনুল জানায়, ঘটনার দিন থেকে সে এমন আচরণ করছে। তিনি কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, মেয়ের এমন ঘটনায় বিচার পেলাম না বরং উল্টো পুলিশি হয়রানির স্বীকার হয়েছি। তিনি জানান, অভিযুক্ত মজিদের চিকিৎসার জন্য ইউপি সদস্য আকরাম আমার কাছ থেকে ৫’শ টাকাও নিয়েছে। মেয়ের শ্লীলতাহানির ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ প্রসংঙ্গে ইউপি সদস্য আকরাম আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা যায় নি। কথা হয় চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন মোস্তফার সাথে। তিনি উভয় পক্ষের অভিযোগ প্রাপ্তির কথা জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ঘটনাটি জানতে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনাটি অমানবিক আখ্যা দিয়ে সাতনালা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম জানান, একজন অপরাধী পাল্টা অভিযোগ করার সাহক কিভাবে পায়-তা আমার বধগম্য নয়। এমন অমানবিক ঘটনার সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাব আলী মোল্লা।
কথা হয় সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু তারেক এর সাথে তিনি জানান, শ্লীলতাহানির ঘটনাটি অবগত হয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।