বিপিএম জয়, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলূ চাষে ব্যস্ত হয়ে পরেছে আলু চাষীরা। বর্তমানে আগাম আলু লাগানোর বয়স চলছে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬ দিন। আর মাত্র ২৪ দিন পর আলু উঠানোর কাজ শুরু হবে। বাজারে আসবে নতুন আলু। কৃষকের হাতে টাকা আসবে কাড়ি কাড়ি। এবারে আলু চাষাবাদে আাবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকরা আগাম আলুর ভালো ফলনের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে,এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৬’শ ৪০ হেক্টর জমিতে। অর্জিত চাষাবাদ হয়েছে ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমি। দেশের একমাত্র কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় আগাম আলু চাষাবাাদ করা হয়। এলাকার জমিগুলোতে একসময় কাঁশবনের চাষাবাদ করা হতো। বর্তমান কৃষকরা আগাম আলু চাষ করে আর্থ সামাজিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
১৯৯০ সালে বাহাগিলী ইউনিয়নের এক কৃষক বাড়ির পাশের জমিতে খাওয়ার জন্য আগাম আলুর চাষাবাদ শুরু করেন। ভালো ফলন পাওয়ায় সেখান থেকে আগাম আলুর চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায়।
সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের আলু চাষী আনোয়ারুল ইসলাম জানান,তিনি এবারে ২০ বিঘা ডাঙ্গা জমিতে আলু চাষাবাদ করেছেন। তার প্রতি বিঘা জমিতে আলু উঠানো পর্যন্ত খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। আলুর ফলন ভালো হলে ও প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে তিনি ২০ বিঘা জমিতে খরচ পুষিয়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা লাভ করবেন বলে আশা করছেন।
একই ইউনিয়নের গদা কোরানী পাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল হক ফিলিপ জানান,তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আলুর চাষ করেছেন। বর্তমান তার লাগানো আলুর বয়স চলছে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬ দিন। আলুর মড়ক ও রাজনৈতিক সংকট না থাকলে তিনি তার চাষাবাদকৃত আলু থেকে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের চাষী আলম হোসেন জানান,তিনি ৪ বিঘা জমিতে আগাম জাতের গ্রানুলা আলু লাগিয়েছেন। এ জাতের আলু ৬০ দিন বয়স হলে উঠানো যায়। তিনি জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয় না থাকলে তিনি প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ বস্তা আলু ঘরে তুলতে পারবেন।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই উপজেলার কৃষকদের প্রধান আয়ের উৎস আলু চাষাবাদ। অল্প সময়ে দ্বিগুণ লাভবান হওয়ার আশায় কৃষকরা আলু চাষাবাদ করে। সময় মতো ওষুধ প্রায়োগ করতে না পারলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
তাই কৃষকদের আগাম আলু চাষাবাদে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যাতে করে এ এলাকার কৃষকরা আলু উৎপাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে রপ্তানী করে কৃষকরা আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।