সিসি নিউজ : আলাদা দুটি মামলায় নীলফামারীতে ছাত্রদল-জামায়াতের ৪৮ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রদলের ১১ জন এবং জামায়াত-শিবিরের ৩৭ জন নেতাকর্মী নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোদী অপরাধে দন্ডিত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হবার পর নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের কাচারী বাজারে ভাঙ্গচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং স্থানীয় গোবিন্দ নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। অগ্নিকান্ডে ওই বাজারের শতাধিক দোকানপাট পুড়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ছয় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর লক্ষীচাপ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লাকু বাদী হয়ে নামীয় ৩৬ জনকে আসামী করে নীলফামারী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে একই বছরের চার এপ্রিল ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে নীলফামারী বাজারস্থ্ এবাদত প্লাজার সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে দোকানপাটে ভাঙ্গচুর চালালে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশের ওপড় হামলা ও সরকারী কাজে বাঁধা দানের অভিযোগে নীলফামারী সদর থানার উপ-পরিদর্শক আরমান আলী জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোর্শেদ আজমসহ ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
উক্ত দুটি মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলামের আদালতে ছাত্রদলের ১১ জন এবং জামায়াত-শিবিরের ৩৭ জন হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে দলীয় নেতাদের কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক জহুরুল আলমের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরবাজারস্ত দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা রঞ্জু, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এসএম বাবলা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।