• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন |

কয়লা উত্তোলন বন্ধ: জ্বালানী সংঙ্কটে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র

Boropukuria Coal khoniফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের একমাত্র বড়পকুুরিয়া কয়লা খনি। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে কয়লা উৎপাদন বন্ধ থাকায় কয়লা ভিক্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে জ্বালানী সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বড়পুকুরিয়ার কয়লার মজুদ। এর মধ্যেই উৎপাদন শুরু না হলে, জ্বালানী সংঙ্কটের কারনেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সুত্রে জানা গেছে চলতি সনের গত ১০ মে থেকে ভূ-গর্ভে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে কয়লার উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৫মাস অতিবাহীত হলেও এখন পর্যন্ত কয়লা উত্তোলন শুরু করতে পারেনি খনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে মজুদ কয়লার পরিমান শেষ হয়ে আসায় জ্বালানী সংঙ্কট দেখা দিয়েছে কয়লা ভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ এর প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক সিসি নিউজকে জানান, প্রতিদিন তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু থাকলে ১৮শ থেকে ২ হাজার মে. টন কয়লার প্রয়োজন হয়, তবে যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে কখনো কখনো একটি ইউনিট বন্ধ থাকলে, সেক্ষেত্রে ১ হাজার মে,টন  কয়লা হলেই চলে। এই কয়লা সম্পুর্ন বড়পুকুরিয়া খনি থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ ৫মাস কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকায় এখন জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানী লিঃ এর মহা-ব্যাবস্থাপক (মাইনিং) হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিসি নিউজকে বলেন, এখন খনিতে ৪০ হাজার মে,টন কয়লা মজুদ আছে, সেই কয়লা তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১ হাজার মে,টন করে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া  ভূ-গর্ভের ১২১২ নং ফেইজের উন্নয়নের কাজ শেষ এখন যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, আগামী মাসের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় ১২১২ নং ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হবে।
এদিকে দিনাজপুর জেলাসহ উত্তারঞ্চলের প্রায় ২হাজার ইট ভাটার মালিকেরা বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই ইট ভাটার জ্বালানী নিবারন করেন। আর ১ মাসের মধ্যেই শুরু হবে ইট পোড়ানো মৌসুম, কিন্তুু ভরা মৌসুমে খনিতে কয়লা না থাকায় তারাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকে তামা বীল, বুড়িমারি, সোনামসজিদ এলাকা থেকে কয়লা ক্রয় শুরু করেছে। ইট ভাটার মালিকেরা বলেন, যদি এক মাসের মধ্যে খনি থেকে কয়লা কিনতে না পারে তাহলে চড়া দামে ভারত থেকে নিম্ন মানের কয়লা কিনতে হবে আমদানী কারকদের কাছ থেকে। এছাড়া কয়লার সংঙ্কট সৃষ্টি হলে ভাটার মধ্যে কাঠ পোড়ানোর আশংঙ্কা দেখা দিবে। এতে বন বিভাগের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে পরিবেশবিদেরা আশংঙ্কা করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন ভূ-গর্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা সঠিক সময়ে উত্তোলন শুরু হবে। কয়লার সংকট কেটে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ