রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় সোমবার রাতে পুলিশের (অব.) হাবিলদার নূর উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ৩ জনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থলে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নাজিমখান ইউপি’র সোমনারায়ণ মৌজায় অবস্থিত সার্বজনীন শশ্মান কালী মন্দিরে। মামলার বিবরণে প্রকাশ, সোমনারায়ণ সার্বজনীন কালী মন্দিরটিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হিন্দু ধর্মালম্বী লোকজন মন্দিরটিতে পূজা-অর্চনা করার সময় ঢোল-তবলা বাজিয়ে আসছিল। পার্শ্ববর্তী (অব. প্রাপ্ত পুলিশের হাবিলদার নুর উদ্দিন (৬৫)সহ তার দু’পুত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পূজা-অর্চনা করার সময় নামাজের ডিষ্টাব হয় মর্মে ঢোল-তবলা বাজাতে নিষেধ করে আসছিল। এরই সূত্র ধরে রোববার দিবাগত রাতে এলাকার সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় পার্শ্বে মন্দিরে যাওয়ার পথে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দেখতে পান ওই মন্দিরের তিনটি প্রতিমা ভাংচুর করে তাদের পথ রোধ করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি সোমবার সকালে মন্দির কমিটির লোকজনকে অবহিত করলে সোমনারায়ণ সার্বজনীন কালী মন্দিরের সভাপতি সুজন বকসী বাদী হয়ে সোমবার রাতে পুলিশের (অব.) হাবিলদার নূর উদ্দিন (৬৫) কে প্রধান এবং তার দু’পুত্র মো. নিজামুদ্দিন (৩৫) ও নাসির উদ্দিন (২৮) কে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৫, তাং-২৮-১০২০১৪ ইং। ওই মন্দিরের পূজারী ধীরেন্দ্র নাথ রায়, সন্তোষ চন্দ্র, কমল চন্দ্র, দুলাল চন্দ্র, তরণী কান্ত অভিযোগ করে বলেন, ইতি পূর্বে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাবিলদার (অব.) নূর উদ্দিন হিন্দুদের পূজা-অর্চনা করা থেকে বিরত থাকতে নানান ধরণের হুমকী দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। প্রতিমা ভাংচুর করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।