• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

চামড়ায় যখন ছত্রাক

imagesস্বাস্থ্য ডেস্ক : এ দেশে যে ক’টি চর্মরোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে ঘামাচির পরই ছত্রাকজনিত চর্মরোগ অন্যতম। গরমকালে এ রোগটি বেশি হয়। কারণ গরমকালে বেশি ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ঘাম এবং ভেজা শরীরই হলো ছত্রাক জন্মানোর জন্য উপযোগী। তবে যারা এয়ারকুলার ব্যবহার করেন তাদের ঘাম হয় না। রোগটিও তাদের ক্ষেত্রে কম হয়। যারা পরিষ্কার-পরিছন্নতা সম্পর্কে ততটা সজাগ নন, এ রোগটি তাদের বেশি হতে দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ লোক এ রোগে আক্রান্ত হন। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এ রোগে আক্রমণের হার শীতপ্রধান দেশের চেয়ে বেশি। আমাদের দেশে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার লোক প্রতি বছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আমাদের দেশে ছত্রাকজনিত প্রধান দুটি চর্মরোগ হলো দাউদ ও ক্যানডিডিয়াসিস। আসুন, জেনে নেই এ রোগ দুটি সম্পর্কে জরুরি তথ্য_
দাউদ : দাউদ দেহের যে কোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। যে স্থানে দেখা যায়, সে স্থানটিতে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। যার মধ্যখানের চামড়া প্রায় স্বাভাবিক আকারে দেখতে হলেও গোল দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায়। এ দাগের পরিধিতে উঁচু বর্ডার লাইন আকারে থাকে এবং চুলকালে সেখান থেকে কষ ঝরতে থাকে।
শরীরের যে কোনো স্থানে এর আক্রমণ ঘটতে পারে। তবে দেখা গেছে, তলপেট, পেট, কোমর, নিতম্ব, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থান বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রমণের স্থান লক্ষ্য করে একে স্থানভিত্তিক বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে; যেমন_ মাথায় যখন ডার্মাটোফাইট জাতীয় ছত্রাকের আক্রমণ হয়, তখন তাকে বলা হয় টিনিয়া কেপিটিস। ঠিক তেমনিভাবে যদি পায়ে হয়, তখন বলা হয় টিনিয়া পেডিস ক্রুরিস, হাতে হলে বলা হয় টিনিয়া ম্যানাস, নখে হলে তাকে বলা হয় টিনিয়া আংগুয়াম, শরীরের অংশবিশেষ আক্রান্ত হলে বলা হয় টিনিয়া করপোরিস।
ক্যানডিডিয়াসিস : এটি একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম; যেমন_ শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে যারা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন কিংবা যাদের ত্বকের খাঁজ পানিতে অথবা ঘামে সব সময় ভেজা থাকে, তাদেরই এ রোগটি বেশি হয়। যারা সব সময় পানি নাড়াচাড়া করেন তাদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বায়, মহিলাদের যোনিপথে এবং গর্ভবতী মহিলারা এতে বেশি আক্রান্ত হন। ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচুর চুলকানি থাকে।
রোগ নির্ণয় : আক্রান্ত স্থানে চামড়া একটু ঘষে তুলে নিয়ে একটি গ্লাস সস্নাইডের উপরে রাখতে হবে। মাইক্রোস্কোপের নিচে এটা যে ফাংগাশ বা ছত্রাক তা খুব সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব।
চিকিৎসা : চিকিৎসা নির্ভর করে আক্রমণের স্থান ও আক্রমণের তীব্রতার ওপর। ক্যানডিডিয়াসিসের ক্ষেত্রে কেটোকোনাজল ও ফ্লুকোনাজল ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছুলির ক্ষেত্রে একই ওষুধ ব্যবহার করতে হয় এবং দাউদের ক্ষেত্রে গ্রাইসিফুলভিনসহ উপরে উলি্লখিত দুটি ওষুধের যে কোনো একটি ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ