কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপের মুখে নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারলেন না সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সেক্রেটারি সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
কমিটি নিয়ে জটিলতা হওয়ায় জেলা সভা স্থগিত করে ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা শনিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে কুড়িগ্রাম টাউন হল ত্যাগ করেন।
জানাগেছে, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট অথবা যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের। কিন্তু প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপের মুখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় সম্মেলন স্থগিত করে কুড়িগ্রাম টাউন হল ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
ছাত্রলীগ সূত্র থেকে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, কুড়িগ্রাম পৌর ও সদর উপজেলা চারটি ইউনিটের বিধি অনুযায়ী কাউন্সিলর হওয়ার কথা ১০০ জন। কিন্তু এ চারটি ইউনিটে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা কমিটি দেয়ায় কাউন্সিলরের সংখ্যা দাড়ায় ২০০ জনে। এ ২০০ জনের মধ্যে কোন ১০০ জন বৈধ কাউন্সিলর হবে তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ ছাড়াও তিনটি প্যানেলের মধ্যে একটি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ বিবাহিত হওয়ার অভিযোগ করে। অন্য একটি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরি করার অভিযোগ নিয়ে বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপরোক্ত সমস্যাগুলো কোনো সমস্যাই নয়। এখানে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রমুখ।
সম্মেলনে ছাত্রীলীগের ১২টি ইউনিটের ৪০১ জন কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা অংশ নিলেও সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রত্যক্ষ ভোট না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।