আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকাকে ‘খুনি’ বলে দেশটির নৌবাহিনীর তিন নাবিকের মাথায় বস্তা পড়িয়ে দিল তুরস্কের এক সংগঠনের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। ‘আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ’ এর বিরোধীতা করে এ বিক্ষোভের আয়োজন করে ইয়ুথ এসোসিয়েশন অব তুর্কি (টিজিবি)। আর এর মাধ্যমে দশ বছর আগের তুরস্ক সেনাদের অপমানের প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, “তিন আমেরিকান নৌবাহিনীর সদস্যকে ঘিরে ধরেছে ইয়ুথ এসোসিয়েশন অব তুর্কি’র ১০ সদস্য। তারা এসময় ‘তোমরা বাড়ি যাও’, ‘তোমরা খুনি’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা আমেরিকান সেনাদের তুরস্ক ছেড়ে যাবারও দাবি জানায়।”
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের এমিননো জেলায় এ ঘটনা ঘটে।এখানেই ইএএস রস নামে আমেরিকার একটি যুদ্ধ জাহাজ নোঙ্গর করা ছিলো।
বিক্ষোভকারীরা তাদের র্যা লি থেকে আমেরিকান সেনাদের লক্ষ্য করে লাল রং ছোঁড়ে দেই এবং তাদের মাথায় সাদা বস্তা পড়িয়ে দেয়।এসময় এক বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, “তোমরা বলছো যে তোমরা আমেরিকান সেনাবাহিনীর সদস্য।আমরা তোমোদেরকে খুনি মনে করি।”
গিজেম দোগান নামের সংগঠনটির এক নেতা আল-জাজিরাকে বলেন, “আমরা আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছি।তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকা নাক গলিয়ে থাকে। দশ বছর আগে আমেরিকান সেনারা তুরস্কের সেনাদের অপমান করেছিলো।”
তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে আমরা এ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিলাম।যাদের উপর আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছি তারা আমেরিকার সেনা তা নিশ্চিত হয়েই করেছি।”
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় উত্তর ইরাকের সোলাইমানিয়া এলাকায় তুর্কি সেনাদের ঘাঁটিতে অভিযান চালায় আমেরিকা।এসময় আমেরিকার সেনারা ১১ তুর্কি সেনাদের ধরে তাদের মাথায় বস্তা পড়িয়ে দেয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকা ও তুরস্ক সরকার।
এক টুইট বার্তায় তুরস্কের মার্কিন দূতাবাস জানায়, “আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাই।ইস্তাম্বুলে হামলার নিন্দা জানাচ্ছি, আশা করি তুরস্কের অধিকাংশ মানুষ আমাদের সাথে এ বিষয়ে একমত হবেন।
অপরদিকে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, “এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”-আল-জাজিরা।