খেলাধুলা ডেস্ক: বিশ্বের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন তিনি৷ তার ক্লাব বার্সেলোনার কর্মকর্তাদেরও সেটা অজানা নয়। কিন্তু নিজেদের সেরা অস্ত্রকে আগলে রাখার কোনো তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না কাতালন ক্লাবটির৷ এবং এটাই মেসির অসন্তুষ্টি ও অভিমানের প্রধান কারণ।
দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের অনেক তারকা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেই কর সংক্রান্ত মামলা ঝুলে রয়েছে।কিন্তু বেছে বেছে ঠিক মেসিকেই বিব্রত করা হচ্ছে। সময়ে অসময়ে তাকে সমন পাঠানো হচ্ছে কিংবা আদালতে ডাকা হচ্ছে। এই ঘটনায় বিব্রত এমএল-টেন। এবং অতিষ্ট হয়ে স্পেন তথা বার্সেলোনা ছাড়ার কথা ভাবছেন। অথচ বার্সা অদ্ভুত রকম নিশ্চুপ৷
২০১৩ সালে বার্সার সঙ্গে বছরে ৫০ মিলিয়ন ইউরোয় চুক্তি নবীকরণ করে মেসি প্রথমবার ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন৷ স্পেনের কর বিভাগ মেসির বিরুদ্ধে ইমেজ রাইট থেকে ৪.১ মিলিয়ন পাউন্ড কর ফাঁকির অভিযোগ আনে। স্পেনের কর বিভাগের আইন অনুযায়ী, কেউ ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি অপ্রকাশিত অর্থের মালিক হলে তাকে জেলে যেতে হবে। অবশ্য কর পরিশোধে সেই ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। মেসিও সেটাই করেছিলেন। জরিমানা হিসেবে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড কর বিভাগকে পরিশোধ করেন মেসি৷
তবে এখানেই সমস্যার শেষ হয়নি। অর্থ পরিশোধ সত্ত্বেও এখন মেসিকে আদালতের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে। যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে জেল পর্যন্ত খাটতে হতে পারে চারবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারকে। এই আশঙ্কাটাই সম্ভবত মেসির মনে নেতিবাচক একটা চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়েছে। মেসির ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র ‘এল কনিফিডেনশিয়াল’কে তেমনটি জানিয়েছেন।
ওই সূত্র জানায়, ‘মেসি ছাড়াও আরও কিছু তারকা খেলোয়াড় স্পেনে কর জটিলতায় জড়িয়েছেন। তারা সকলেই প্রশাসনিকভাবে বিষয়টির সুরাহা করেছেন। যেমন রিয়াল মাদ্রিদের ইকার ক্যাসিয়াস, বায়ার্ন মিউনিখের জাবি আলন্সো এবং টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল। কিন্তু মেসিকেই একমাত্র আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। যার ফলস্বরূপ জেল হতে পারে মেসির। যা বার্সা তারকাকে হতাশ করছে। এবং ঝামেলা এড়াতে স্পেন ছাড়তে চাইছে তিনি।’- ওয়েবসাইট।