• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন |

মধ্যপাড়া পাথর খনিতে জিটিসি’র অধীনে এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান

Modhoparaআফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর অধীনে প্রায় এক হাজার লোকের  কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে এক হাজার পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে খনি থেকে উপকৃত হচ্ছেন আরো ৩ শতাধিক পরিবার। খনি শ্রমিক সহ বিভিন্ন পদে এই কর্মসংস্থানের ফলে বেকারত্ব দুর করে স্বাবলম্বী করেছে খনি ও আশেপাশের এলাকার প্রায় ১ হাজার ৩  শতাধিক পরিবারকে।
খনিতে বাণিজ্যিকভাবে  উৎপাদন শুরুর দীর্ঘ প্রায় ৭ বছরেরও ৩ শিফট্ চালু  করা সম্ভব হয়নি।  আর তাই নতুন কোন কর্ম-সংস্থাপনের সুযোগ তৈরী হয়নি। সরকার গত বছর বন্ধ হওয়ার উপক্রম এই পাথর খনিটিকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচিয়ে এটিকে লাভজনক করতে পাথর উত্তোলন ও রক্ষনাবেক্ষণ কার্যক্রম বেসরকারী কোম্পানীর হাতে ছেড়ে দিতে জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সাথে চুক্তি করে।
জিটিসি’র সুত্র জানায়, বাংলাদেশে এই প্রথম বিদেশী একটি কোম্পানীর সাথে একটি দেশী কোম্পানী যৌথভাবে খনি সেক্টরে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে বিদেশী  বিনিয়োগে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যাতে বেকার সমস্যা সমাধানে অবদান রাখছে। তারা খনির  দায়িত্বভার নেওয়ার প্রাক্কালে উৎপাদন কাজের স্বাভাবিক অবস্থা ছিল না। স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রতিকুলতা কাটিয়ে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে জানুয়ারী মাসজুড়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুর্বের দক্ষ খনি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার সহ খনি এলাকার জনসাধারনেরও এই নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয় জিটিসি। উৎপাদন শুরুর ৮ মাসের মধ্যে খনির উৎপাদন ইতিহাসে প্রথম ৩ শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করা হয়েছে।
পাথর খনিতে জিটিসি’র অধিনে  একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যাক্তি কর্মসংস্থান হয়েছে । এখানে  কর্মরত চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী  খনি এলাকার বাসিন্দা সাকিরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি সহ তার পরিবারের  আরো দুই ভাই  খনিতে চাকুরী করছেন। এই চাকুরীর ফলে প্রতি মাসে বেতন থেকে তাদের পরিবারের আয় হচ্ছে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। এই খনিতে এমন অনেক পরিবারের একাধিক সদস্য চাকুরী করছেন।
জিটিসি’র একটি সুত্র জানায় , তাদের অধীনে  খনি শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৪ শ এবং শিক্ষানবিশ শ্রমিক হিসেবে রয়েছেন প্রায় ২ শ জন। এই প্রায় ২ শ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১১৪ জনকে খনি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। খনির উপরীভাগে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ২ শ জন। এছাড়া খনির নিরাপত্তা দায়িত্বে আনসার সহ বেসরকারী সিকিউরিটি গার্ড রয়েছেন প্রায় ১ শ জন।
এছাড়া খনির উপর নির্ভর করে খনি সংলগ্ন গড়ে উঠেছে ৩০ টির অধিক দোকানপাট। যাদের প্রধান ক্রেতা খনিতে আসা মানুষজন। পাশাপাশি খনিতে চাকরীজীবিদের বাড়ী ভাড়া দিয়ে এবং  এখানে  প্রতিদিন পাথর নিতে আসা   শতাধিক ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার , ট্রাক ভাড়াকারী ব্যাক্তি সহ  ট্রাকে পাথর লোড করার শ্রমিক সহ  প্রায় ৩ শত ব্যাক্তির প্রত্যক্ষভাবে ও আরো অনেক পরিবারের পরোক্ষভাবে আয়ের ব্যবস্থা  তৈরী হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ