সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে বেসরকারি খাতের তিনটি ব্যাংকের শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক চাকুরী চ্যুত হয়েছে।
সূত্র মতে, ইসলামী ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার গুদামে শুঁটকি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করেই এক ব্যবসায়ী গুদামে মজুদ শুঁটকি বিক্রি করে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন প্রতারণার দায়ে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ব্যাংক। সূত্রটি জানায়, ব্যাংকের ওই শাখা থেকে মজুদ শুঁটকি বন্ধক রেখে ব্যবসায়ী সফল আলী মুন্সি ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ঋণ নেয়। শর্ত অনুযায়ী ব্যাংকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই ব্যাংকের গুদাম থেকে পণ্য নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পণ্য গুদামে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়া হলে ওই গুদাম থাকে ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে। ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া গুদাম থেকে পণ্য বিক্রি করা যায় না। অথচ ওই ব্যবসায়ী শর্ত ভঙ্গ করে জালিয়াতি করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, ব্যাংকের গুদাম থেকে পণ্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথচ এক্ষেত্রে তা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখা থেকে এ ধরনের ঘটনায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে ওই সূত্রটি জানান।
এনসিসি ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা থেকে শহরের তিন ব্যবসায়ী নেয়া ঋণের মধ্যে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। ব্যাংকের নিয়ম উপেক্ষা করে ওই ঋণ দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে শাখা ব্যবস্থাপক মীর মায়নুর রহমান চাকুরী চ্যুত হয়েছেন। একটি সূত্র জানায়, সামস্ নামক এক ব্যবসায়ীর কাছেই বকেয়া রয়েছে এক কোটি টাকা। তবে এসব খেলাপীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে ১৪টি মামলা দায়ের করেছে।
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখায় ভুয়া গ্রাহকের নামে এলসি খুলে শাখা ব্যবস্থাপক নিজেই আমদানি-রফতানির ব্যবসা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল গফ্ফারের নামে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা গম আমদানির নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণ দেখানো হয়। ওই ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়নি বলে সাফ জানিয়ে বলেন, তিনি কোন গম কিংবা পণ্য আমদানি করেনি। এ ঘটনায় শাখার ব্যবস্থাপক এনামূল হককে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ এবং উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেছে- যা বিচারাধীন।
ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শামসুল আলম ও এনসিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সাজ্জাদুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, বকেয়া ঋণ আদায়ে মামলা দেয়া হয়েছে। যা জেলা পর্যায়ে ও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সূত্র: আলাপন