স্বাস্থ্য ডেস্ক: হাইড্রোসিল অ-কোষের চারপাশে ঘিরে থাকা একটি পানিপূর্ণ থলি, যার কারণে অ-থলি ফুলে যায়। অ-কোষের দুই আবরণের মাঝখানে পানির অবস্থান। জন্মের সময় প্রতি ১০ জন পুরুষ শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের হাইড্রোসিল থাকে। হাইড্রোসিলে সাধারণত ব্যথা হয় না। হাইড্রোসিল ক্ষতিকর নয়। অ-কোষ যদি ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। দেখতে হবে ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগে অ-কোষ ফুলে গেছে কিনা।
কারণ : ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা অবস্থায় হাইড্রোসিল হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রায় ২৮ সপ্তাহে স্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শিশুদের অ-কোষ উদর গহ্বর থেকে অ-থলিতে নেমে আসে। প্রতিটা অ-কোষের সঙ্গে একটি স্যাক বা থলি (প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস) থাকে এর মধ্যে পানি জমে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ স্যাক বা থলি বন্ধ হয়ে যায় এবং পানি শোষিত হয়। তবে থলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি পানি থেকে যায় তাহলে সে অবস্থাকে বলে নন-কমিউনিকেটিং বা সংযোগবিহীন হাইড্রোসিল। কারণ এক্ষেত্রে থলি বন্ধ হয়; কিন্তু পানি পেটে ফিরে যেতে পারে না। সাধারণত এক বছরের মধ্যে পানি শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে থলি খোলা থাকে। এ অবস্থাকে বলে কমিউনিকেটিং বা সংযোগকারী হাইড্রোসিল। থলির আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা অ-থলিতে চাপ দিলে পেটে ফিরে যেতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় : অধিকাংশ হাইড্রোসিল জন্মের সময় থাকে। একে বলে জন্মগত হাইড্রোসিল। অন্য অবস্থাগুলো সাধারণত ৪০ বছর বয়সে বা তার বেশি বয়সে আক্রমণ করে। হাইড্রোসিলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছেÑ
* অ-থলিতে আঘাত
* ইনফেকশন বা সংক্রমণ
* রেডিয়েশন থেরাপি বা রশ্মির সাহায্যে চিকিৎসা।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন : শিশুদের ক্ষেত্রে হাইড্রোসিল সাধারণত নিজে নিজেই মিলিয়ে যায়। যদি আপনার শিশুর হাইড্রোসিল এক বছর পরও মিলিয়ে না যায় কিংবা আরও বড় হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
রোগ নির্ণয় : সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করে হাইড্রোসিল নির্ণয় করা হয়। অ-থলি ফুলে গিয়ে বড় হয় এবং চাপ দিলে ব্যথা লাগে না। সাধারণত চারপাশের পানির কারণে অ-কোষে হাত দিয়ে অনুভব করা যায় না। পেটে কিংবা অ-থলিতে চাপ দিলে কখনও কখনও পানিপূর্ণ থলি বড় বা ছোট হতে পারে এরকম হলে বুঝতে হবে ইনগুইনাল হার্নিয়া রয়েছে। যেহেতু হাইড্রোসিলের পানি স্বচ্ছ হয়, তাই চিকিৎসক আপনার অ-থলিতে টর্চের আলো ফেলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। হাইড্রোসিলের ক্ষেত্রে আলোর অ-কোষের বাইরের রেখা দেখা যাবে, এতে বোঝা যাবে ওটার চারপাশে স্বচ্ছ পানি রয়েছে। যদি আপনার চিকিৎসক সন্দেহ করেন যে, আপনার হাইড্রোসিল প্রদাহের কারণে হয়েছে, তাহলে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। অ-কোষের চারপাশে পানি থাকে বলে অ-কোষে হাত দিয়ে অনুভব করা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
আলট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
পেটের এক্স-রে।
জটিলতা : হাইড্রোসিল সাধারণত বিপজ্জনক নয় এবং এটা প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে নিচের অবস্থাগুলোর সঙ্গে এটা সম্পৃক্ত থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে এটা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসা : যদি শিশু জন্মের এক বছর পরও হাইড্রোসিল মিলিয়ে না যায় কিংবা আরও বড় হতে থাকে তাহলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে হাইড্রোসিল বড় হয়ে অস্বস্তি ঘটালে অথবা আকৃতির কারণে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। অপারেশন সর্বদা দক্ষ সার্জন দিয়ে করাতে হবে।