• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুর রেল স্টেশনের ছাদ ঢালাইয়ে অনিয়ম তদন্তে যুগ্ন সচিব!

2_1একরামুল হক বেলাল: রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ রেল জংশন পার্বতীপুর স্টেশন বিল্ডিং সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। এ সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার রেল যুগ্ন সচিব হেমায়েত হোসেন তদন্তে এলেও তিনি রেলওয়ে রুটিন ওয়ার্ক কাজে এসেছেন বলে সাংবাদিকদের জানালেন। যুগ্ন সচিবও দূর্নীতির বিষয়টি ঢেকে রেখে ঠিকাদার সহ সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তাদের দূনীতি মুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
বিভিন্ন অভিযোগে জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে স্টেশন মাস্টারের রুমসহ ১২টি অফিস রুমের সব ক’টিতে ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। প্রথম শ্রেনীর বিশ্রামাগারের একটি ফ্যান পানি পড়ে পুড়ে যায়। ছাদ ঢালাইয়ে রডের মিলি মিটার কম, বালুর পরিমান অনুযায়ী (ফোর ইসটু ওয়ান) সিমেন্ট কম দেওয়া, ছাদের ঢালাইয়ের উচ্চতা (থিকনেস) কম, পাথরের সাইজ ছোট বড়, ভ্যান্টিলেটর ছোট করা অথবা না রাখা, টাইল্স ও সিলিং ফ্যান নিম্নমানের, পানি ব্যবহারের জন্য পূর্বের লোহার পাইপের পরিবর্তে নিম্নমানের প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগে ফুসে উঠতে শুরু করেছে রেল কর্মচারীসহ সাধারন মানুষ। পার্বতীপুর রেলওয়ের সিনিয়র সাব এ্যাসিষ্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই-ওয়ার্কস) তহিদুল ইসলাম বলেন, পানি পড়ার বিষয়টি সত্য। তবে তিনি দাবী করেন, নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে এ কাজটি সমাপ্ত করা হয়েছে। ত্রুটিগুলো সারিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে পার্বতীপুর রেল স্টেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগত বলেছিলেন, সবেমাত্র ছাদ ঢালাই হলো। আর এতেই পানি পড়া শুরু করেছে। পানি পড়বে কেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট এমন প্রশ্ন তিনি নিজেই করবেন বলে উল্লেখ করেন। আর যেহেতু পানি পড়ছে সেহেতু ছাদ ঢালাই কাজে শতভাগ অনিয়ম হয়েছে। উপ-সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, এসএসএই/ওয়ার্কস বলেন তারা কাজের সময় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। থাকলে এ অবস্থা হতো না। এর জন্য তারাও দায়ী বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, পার্বতীপুর রেলষ্টেশনের সংস্কার কজের মুল ঠিকাদার রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর ঘোড়ামারার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএস হোসেন এন্টারপ্রাইজ। তিনি চাঁদাবাজির কারনে জনৈক আরজু নামের এক ব্যক্তিকে সাব ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে রাজশাহীর জনৈক বাচ্চু নামের অপর এক ঠিকাদারকে সাব ঠিকাদারি দেওয়া হয়। কাজ শুরুর আগে সাব ঠিকাদার বাচ্চু কাজের পরিবেশ ফিরে এনে মুসাফিরখানা ও টিকিট বুকিং অফিসের কাজ সমাপ্ত করার পরে পুনরায় আরজু কাজটি বাচ্চুর কাছ থেকে ফেরত নিয়ে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেন। ইতিমধ্যে এ কাজের ফাইনাল বিল উত্তোলনের জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সকল প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। ঠিকাদার আরজু’র কাছে জানতে চাইলে বলেন, পুরো প্লানে ভুল ছিল। ছাদ ঢালাইয়ে পাথর ব্যাবহার করায় পানি পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এব্যাপারে রেলওয়ের পশ্চিমজোনের দু’কর্মকর্তা বলেন, ত্রুটি সারিয়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ১৫ আগষ্ট পার্বতীপুর প্লাটফরমের মুল ভবনের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯শ’ ৮০ টাকা ৯০ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজের মেয়াদকাল শুরুর দিন থেকে ২১০ দিন। কাজের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।
এনিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রেল যুগ্ন সচিব হেমায়েত হোসেন তদন্তে এসে ষ্টেশনের ছাদে উঠে ঠিকাদারের কাজ পরির্দশন করেন। রেলওয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার জবানবন্দী গ্রহন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদেরে সংগে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি রাগ হয়ে বলেন, আমি কি আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে এসেছি। সরকারী কাজে আপনারা বাধা দিচ্ছেন। আমি রেলওয়ে রুটিন ওয়ার্ক কাজে এসেছি।  যুগ্ন সচিবের বিভিন্ন কথা নিয়ে অনেক সচেতন মহল বলেন, দূর্নীতির বিষয়টি ঢেকে রেখে ঠিকাদার সহ সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তাদের দূনীতি মুক্ত করার চেষ্টা করছেন রেল যুগ্ন সচিব ।
সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এ স্টেশনে নিম্নমানের কাজ করা সাথে সংশ্লিষ্ঠ সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ