• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুরে খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড

parbotipurরুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ৩০ ধারা কার্যক্রমে ভূমি মালিকদের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা প্রকাশ্যে উৎকোচ গ্রহনের মহাৎসব চলছে। টাকার বিনিময়ে সরকারী খাস জমিও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা জমি মালিকরা প্রতিদিনই উপজেলা চত্ত্বরে ভীড় করছে। প্রতিবাদ করলেই সেটেলমেন্ট অফিসের বহিরাগত দালালদের দিয়ে ভূমি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানী করা হচ্ছে।
জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার ১৫৬টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি মৌজার মাঠ জরিপ ও এ্যাষ্টাটেশন এর কাজ ইতি মধ্যেই শেষ। ৩০ ধারার কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ আপত্তি কেস দাখিল করতে মাত্র ১০-১৫ টাকা খরচ হয় কিন্তু অফিসের পেশকার তপন কুমার ভৌমিক একটি করে আপত্তি কেস ১ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। এমন কি কোন কাগজ দেখতে ৫ শত টাকা ফির অলিখিত রেওয়াজ জারী করেছেন। অনেক সময় দালালদের নিকট ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে টাকা গ্রহন করেন না। ভবানীপুর এলাকা থেকে আসা শামসুল আলম বলেন, আমার নিকট ৩ হাজার টাকা গ্রহন করে ৩টি বিশেষ আপত্তি কেস পেশকার তপন কুমার ভৌমিক নেন। সম্পত্তি আটরাই মৌজার হোসনেয়ারা বলেন, আমার নিকট ৩টি বিশেষ কেস দিতে ৬ হাজার টাকা পেশকার তপন কুমার ভৌমিক দাবী করেছেন। আমি গরীব মানুষ হওয়ায় এত টাকা দিতে পারিনি। তাই আমার কেস গ্রহন করেনি।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গত ১৮/০৯/২০১৪ ইং তারিখ থেকে ৩০ ধারার বিশেষ কেস উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে গোপনে দলদলিয়া মৌজার জেএল নং ১৩২ ভূমি মালিক থেকে ৪টি বিশেষ কেস বাবদ ২৪ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
অনুসন্ধানের জানা যায়, উপজেলার হামিদপুর দক্ষিণ বিষ্ণুপুর মৌজার জেএল নং-১৩৯, সাবেক ৩০৯ দাগে কয়েকটি হালদাগ সৃষ্টি করে দাগগুলো হলো-৪৭০, ৪৮১। এই দাগগুলো খাস খতিয়ান হওয়ায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপত্তি কেস ছাড়াই ১৩৭ নং ডিভি খতিয়ানে (মালিকানা) অর্ন্তভূক্ত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক জমি লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মালিকানায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। পার্বতীপুর পৌরসভার খামার জগন্নাথপুর মৌজার কার্যক্রম বন্ধ আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সেটেলম্যান অফিসে কর্মরত পেশকার তপন কুমার ভৌমিক বলেন, এ অভিযোগ গুলোর বিষয়ে আমার জানা নাই।
এ ব্যাপারে দায়িত্বরত উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আব্দুল কাদের চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ