সিসি ডেস্ক: দীর্ঘদিন রাজপথে দেখা না গেলেও অভ্যন্তরীণ দলীয় কর্মকান্ডে গোপন প্রস্তুতি গ্রহণে বেশ তৎপর রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ তৎপরতা আরও বেড়েছে কোণঠাসা এ দলটির। কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে সাত দিনের ঘরোয়া কর্মসূচি। যথাযথভাবে এসব কর্মসূচি পালনে সারা দেশের শাখাগুলোর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে দলের কমিটি পুনর্গঠন এবং আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। তবে গ্রেফতার-হয়রানি এড়াতে সব কর্মকান্ডই চালানো হচ্ছে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে।
দলীয় সূত্রমতে, প্রতিকূল অবস্থার কারণে এককভাবে রাজপথে শক্তি ক্ষয় না করে সাংগঠনিক অবস্থান মজবুত করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে জামায়াত। এজন্য সারা দেশে চলছে জোর তৎপরতা। এরই মধ্যে রুকনদের (সদস্য) গোপন ভোটে জেলা আমির পদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে নতুন আমিরদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে উপজেলা, থানা, ইউনিয়নসহ তৃণমূল সব শাখা পুনর্গঠনের কাজ চলছে। একইসঙ্গে মহিলা জামায়াতসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চালানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় দল চালাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতারা। জেলের বাইরে থাকা নেতারাও আছেন আত্মগোপনে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু নেতা সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অংশ নেন গোপনে। এমনকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠকগুলোতেও প্রথম সারির কোনো নেতার উপস্থিতি দেখা যায় না। এসব বৈঠকে জুনিয়র নেতারা অংশ নিলেও যথাসম্ভব গোপনীয়তা রক্ষা করে যাতায়াত করেন। তবে জোটের প্রকাশ্য সভা-সমাবেশকে নিরাপদ মনে করায় তাতে সরব উপস্থিতি থাকে জামায়াত নেতাকর্মীদের। জানা গেছে, ৩ ডিসেম্বর এক বিবৃতি দিয়ে মহান বিজয়ের মাস উপলক্ষে চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সারা দেশে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস পালন করেছে দলটি। অন্য কর্মসূচিগুলো হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সারা দেশে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দুস্থ ও গরিবদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করবে দলটি। এসব কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।
জামায়াত নেতারা জানান, গতানুগতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারও বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হলেও এর মূল উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা। সংশ্লিষ্ট সব শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। একইসঙ্গে ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অপবাদ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে বেশ কয়েক বছর ধরে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।