• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন |

এই শিশুটিরও একই দাবি…

101834_1সিসি ডেস্ক: অন্য সবার মতো মালিহা নামের এই শিশুটিও ডা. শামারুখ মাহজাবিনের হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধনে হাজির হয়েছেন। হয়তো শিশুটি এখনো জানেই না, কিভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে। বিচারই বা কি করে হবে।

কিন্তু এটুকু সে বুঝেছে যে, একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কিছুদিন ধরে দেখতে পাচ্ছে না। এমনও হতে পারে হয়তো মাহজাবিন হারিয়ে গেছে। সমাজের বিবেকবান মানুষগুলোর প্রতি তার জিজ্ঞাসা মাহজাবিনকে কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন কেউ? নাকি সঠিকভাবে এই হত্যার বিচার করতে পারবে প্রশাসন।

রোববার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে আইডিইবির মানববন্ধনে মাহজাবিনের ক্ষুদে স্বজন মালিহা একটি প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে যায় সবার সামনে। তার ভাব দেখে সবার এইটুকু বোঝার সাধ্য হয়েছে যে, মালিহা ব্যথিত! খুনিদের বিচার হোক। আর কেউ যেন এভাবে প্রান না হারান।

মানববন্ধনে আসা মালিহার মা জান্নাতি বলেন, ‘ডা. শামারুখ একসময় মালিহার মতোই ছিল। সে বড় হয়েছে। বিয়ে হয়েছিল। শ্বশুর বাড়িতে সংসার করা অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার মেয়ে আজ ছোট, এক সময় বড় হবে। লেখাপড়া করবে। কারো না কারো ঘরে যাবে বউ হয়ে। তাকেও কি এরকম নির্মমভাবে হত্যা করা হবে? সময় হয়েছে কথা বলার। সকলকে জেগে উঠতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। এরকম হত্যাকান্ড ঘটতে দেওয়া যাবে না। সোচ্চার হতে হবে নারীসহ সকল বিবেকবান মানুষকে।’

গত ১৩ নভেম্বর ধানমন্ডিতে শ্বশুর বাড়িতে ডা. শামারুখ মাহজাবিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজন অভিযোগ, তাকে (মাহজাবিন) হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলেন, মাহজাবিন আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়। ওই রাতেই শ্বশুর প্রাক্তন এমপি টিপু সুলতান, শ্বাশুড়ী ডা. জেসমিন আরা বেগম ও স্বামী হুমায়ুন সুলতানকে আসামী করে মাহজাবিনের বাবা প্রকৌশলি নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান ধানমন্ডি থানার এসআই কাজী শরীফুজ্জামান। রাতেই হুমায়ুনকে গ্রেফতার করা হলেও এক ও দুই নম্বর আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি।

মামলার পর নুরুল ইসলাম বলে আসছিলেন মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হবে। টিপু সুলতান প্রভাবশালী ও সরকারি দলের হওয়ায় এই মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পরিবর্তন করা হবে। এ দাবিতে কয়েকবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করা হয় বিভিন্ন স্থানে।

গত ২৩ নভেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমদ রিপোর্ট জমা দেন ধানমন্ডি থানায়। রিপোর্টে বলা হয়, ‘ডা. শামারুখ মাহজাবিন আত্মহত্যা্ করেছেন। তিনি প্রথমে হাতের রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরে তিনি গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন।’

নুরুল ইসলাম এ খবর শুনে রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুন:ময়নাতদন্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। ২৫ নভেম্বর ঢাকা চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার মাহজাবিনের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিভাগও পরিবর্তন করার আদেশ দেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটি ধানমন্ডি থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি রুহুল হক। একই সঙ্গে ফরেনসিক বিভাগও পরিবর্তন করা হয়। মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ করলেও দ্বিতীয়বার এ দায়িত্ব পায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ।

সেই অনুযায়ী ৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের কারবালা কবরস্থান থেকে ডা. শামারুখের লাশ তোলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল রানা, সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) মুন্সি রুহুল কুদ্দুস, যশোর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালামসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ডা. হোসেন সারাফাত ও ডা. জেসমিন সুমাইয়াসহ অন্য কর্মকর্তারা।

মৃতদেহ উত্তোলনের পর তা যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাজমুল হুদা, ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. হুসাইন সাফায়াত, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামসুল আলম দোদুল ও ডা. আলমগীর কবির।

ময়নাতদন্তে আলামত সংগ্রহ করে যশোরসহ তিন জায়গায় পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়।সে রিপোর্ট এখনও বের হয়নি।

উৎসঃ   রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ