• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন |

আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ‘ভোট কারচুপি দিবস’

BNP-20ঢাকা: ৫ জানুয়ারিকে ‘ভোট কারচুপি দিবস’ আখ্যায়িত করে ব্যাপক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিএনপি নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোট। এ বিষয়ে গতকাল রোববার নয়াপল্টনে ২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়। শিগগির জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারিকে টার্গেট করে বড় কিছু করতে চায় ২০ দল। এজন্য ২১ ডিসেম্বরের পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নিলে এবং সরকারের বাধা উপেক্ষা করে তা অব্যাহত রাখতে পারলে ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে মহাসচিবরা তাদের মতামত দেন। বিশেষ করে জামায়াত এ বিষয়ে জোর দেয়।

একাধিক বৈঠক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ জানুযারির নির্বাচনের দিনটাকে আওয়ামী লীগ ব্যাপকভাবে পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদেরও একটা কিছু করা দরকার। সে বিষয়ে অনেকেই তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। উপস্থিত প্রায় ১০ মহাসচিব ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দিনটাকে ‘ভোট কারচুপি দিবস’ হিসেবে পালনের বিষয়টি তুলে ধরেন। অথবা অন্য কোনো নামে দিবসটি ব্যাপকভাবে পালনের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

এছাড়া জামায়াতের পক্ষ থেকে আন্দোলনে আরো বেশি ভূমিকার রাখার কথা বলা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিক্ষোভ সভা সেমিনার করে সরকার পতন সম্ভব নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লেই একটা হরতাল দিয়ে সরকার পতন হবে না। একটা টার্গেট নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকারের পতন ঘটাতে হলে সিরিয়াস কর্মসূচি হাতে নিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাঠে নেমে পড়তে হবে।

জোটের এক মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরেই আন্দোলন হবে এটা যুক্তিযুক্ত না। আন্দোলনের মাধ্যমে যদি তা বন্ধ করা যায় তাহলে জনগণের উপকার হবে।

তবে অপর সূত্র জানায়, মহাসচিবদের বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সচিবদের বৈঠক ও নারায়ণগঞ্জের জনসভা সফল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নাম সর্বস্ব দলকে ২০ নেয়ার বিরোধিতা করেন অনেকে। মহাসচিবরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নোট নিয়েছেন। এরপর সবাই মিলে দুপুরের আহার করেছেন।

এসব বিষয়ে খালেদা জিয়ার ১৩ ডিসেম্বরের জনসভার পর জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বেঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জোটের বৈঠক উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের ড. রেদওয়ান উল্লাহ শাহেদী, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির ড. রেদওয়ান আহমেদ, জাগপা খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তের ওলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুহিউদ্দিন একরাম, বিজেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহ উদ্দিন মতিন প্রকাশ, ডিএলের যুগ্ম সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি তৈয়্যেব প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বৈঠকে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালেই কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই হরতাল দিয়ে লাগাতার কর্মসূচি পালন শুরু হবে। পাশাপাশি সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যাওয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ