গাইবান্ধা : মামলা দায়েরের তিন মাস অতিবাহিত হলেও গাইবান্ধার বহুল আলোচিত শিশু শুভ হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ধার হয়নি। সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মীরগঞ্জ এলাকার মো: আশেক আলী মাস্টারের শিশুপুত্র সাকিবুল হাসান শুভকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করে না পাওয়ায় হত্যা ও লাশগুমের ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ থানায় ওই মামলা দায়ের হয়। পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ পিতামাতা সিআইডির তদন্ত চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। জানা যায়, মামলা দায়েরের পর পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়ায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই গুম করা লাশ উদ্ধার ও বাদীপক্ষের সহযোগিতায় এজাহার নামীয় আসামিরা গ্রেফতার হয়। কিন্তু আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ ও প্রধান আসামির স্বীকোরোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর থেকেই এই মামলার তদন্ত কাজে ভাটা পড়ে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের স্বীকোরোক্তি অনুযায়ী সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন বালাপাড়া গুচ্ছগ্রামের বিল হতে কচুরি পানা দিয়ে গোপনে ঢেকে রাখা শিশু শুভর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক সাফল্য মনে করা হয় প্রকৃত রহস্য উদ্ধার এখন স্বল্পসময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু হালে সময় অতিবাহিত হলেও আজও পুলিশির তদন্তের অগ্রগতি বাদী পক্ষের কাছে আশানুরূপ নয়। এরই সূত্র ধরে সমপ্রতি মামলার বাদী নিহত শুভর পিতা আশেক আলী মাস্টার গাইবান্ধার পুলিশ সুপার বরাবরে ওই মামলার তদন্ত সিআইডি’র কাছে হস্তান্তরের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনৈতিক কারণে প্রভাবিত হয়ে তার মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করে প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত না করে ভিন্নভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার বাদীর ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে মনগড়া তদন্ত পরিচালনা করছেন এবং ঘটনাস্থলের পারিপাশ্বর্িকতা ও ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী কেউ ছিল কিনা সে সব বিবেচনা না করে আসামির বর্ণনার উপর ভিত্তি করে খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত রয়েছেন। মামলায় একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে উপস্থাপন করতে না পারার বিষয়ে বাদী মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বাদীর বক্তব্য আপাত দৃষ্টিতে পুলিশ শুভর লাশ উদ্ধার ও মূল আসামি শনাক্তের কথা বল্লেও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় মামলার বিচারিক দিকে দুর্বলতা দেখা দেবে। তিনি প্রকৃত আসামি শনাক্ত করা ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থাপন ও আদালতে গ্রাহ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের মত তদন্ত করতে পুলিশ মনোযোগী নয় বলে জানান। ঘটনাস্থলের নিকটে অবস্থানকারী লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা এ ঘটনার সময় এলাকায় প্রত্যক্ষদর্শী কেউ আছে কিনা সেসব বিবেচনায় এনে তদন্ত করলে অনেক কিছুই জানা যেতে পারে। এলাকাবাসী জানায় ঘটনাস্থলের একেবারে নিকটবর্তী বাড়ির কর্তা খোকা মিয়া ও তার স্ত্রী কোহিনুর ঘটনার রাত থেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায় । এ ঘটনার সাথে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা এই মামলার একটি বড় পারিপাশ্বর্িকতা হলেও পুলিশ তা খতিয়ে দেখেনি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কবির মিয়া ও লাভলু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। এছাড়া আদালতেও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। প্রসঙ্গত গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের আশেক আলী মাস্টারের ছেলে শুভকে বাড়ির উঠান থেকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে দুর্বৃত্তরা শুভর বাবার কাছে মুঠোফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে শুভকে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় বালাপাড়া গ্রামের বিল থেকে শিশু শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা আশেক আলী মাস্টার বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর থানায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উৎস: করতোয়া