একরামুল হক বেলাল, সিসি নিউজ: রংপুর শাখার অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসিনতায় গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দু’মাস পরেও ১লাখ ৫২ হাজার ২শ’ ৮০ টাকার একটি রেলওয়ে চেক হস্তান্তর করলেও খুঁজে পাননি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর পুরাতন বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এ গত ৯ অক্টোবর/১৪ ১ লাখ ৫২ হাজার ২শ’ ৮০ টাকার একটি রেলওয়ে চেক (চেক নং-৫৯৩৩১৫) নিজ নামীয় জনৈকা আলমারা বেগম তার একাউন্ডে (হিসাব নং ৮৩৭৯) জমা করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথারীতি ৯ অক্টোবর তারিখে বাংলাদেশ পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে (ডাক বিভাগ) রেজিষ্ট্রিযোগে (রেজিষ্ট্রি নং-৭০১, তাং-০৯/১০/২০১৪ইং) অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে প্রেরন করেন। যথারীতি অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখা গত ১২ অক্টোবর রেজিষ্ট্রি চিঠিটি গ্রহণ করেন। এরপর কয়েকদিন পরে গ্রাহক আলমারা বেগম ও তার পুত্র আনোয়ার হোসেন পার্বতীপুর পুরাতন বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এ টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যবস্থাপক জানান চেক কালেকশন হয়ে আসেনি। এরপর ব্যাংকে আসে আর যায়। এভাবে কাটে বেশ কিছু দিন। পরে ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে চেকের চিঠিটি রংপুর শাখা পাননি বা খুঁজে পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পর গত ২ নভেম্বর পার্বতীপুর পুরাতন বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেপুটি পোষ্ট মাস্টার জেনারেল দিনাজপুরের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও ডাক বিভাগের টনক নড়ে। চিঠি চালাচালির পর অবশেষে অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে প্রেরনকৃত চিঠিটি গ্রহণকারী সীল স্বাক্ষরকৃত একটি ফটোকপি ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ পার্বতীপুর পুরাতন বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর কাছে সরবরাহ করেন। ব্যবস্থাপক মোতাহারুল ইসলাম তাৎক্ষনিক চিঠি গ্রহণকারী সীল ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে ই-মেইলে প্রেরন করেন। এব্যাপারে গত বুধবার বিকেলে অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখা (টেলিফোন নং-০৫২১-৬২৩৯৩) নম্বরে ব্যবস্থাপকের কাছে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই দিন ৭টি চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে পার্বতীপুর পুরাতন বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর প্রেরিত চেকের চিঠিটি খুঁজে পাচ্ছেন না। চেকটি হারিয়ে যাওয়া বা খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি যেন তার (অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখার ব্যবস্থাপক) কাছে কিছুই না। তিনি বৃহষ্পতিবার পুনরায় খোঁজ নিতে বলেছেন। অপরদিকে, চেকের টাকা না পাওয়ায় তার স্বামীর কুলখানি করতে মারাত্বক অসুবিধা ও দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। ব্যাংকের গ্রাহক আলমারা বেগমের মৃত স্বামী আব্দুল আজিজ সরকার রেলওয়েতে চাকরীরত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। মৃত্যুর পরে রেল কর্তৃপক্ষ আব্দুল আজিজের স্ত্রীর নিকট ১ লাখ ৫২ হাজার ২শ’ ৮০ টাকার প্রাথমিক চেক হস্তান্তর করে। কবে পাবে স্বামীর টাকা, কবে করতে পারবে স্বামীর কুলখানি এমন চিন্তায় চিন্তিত এখন পরিবারটির। দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার দায়ে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর রংপুর শাখার সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি ? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষসহ ভুক্তভোগী বাংক গ্রাহকদের।