• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন |

কাউনিয়ায় দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে তৎপর দুদক!

image_109994_0রংপুর: রংপুরের কাউনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে  দুঃস্থ এতিম প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং ছাবেরা খাতুন ইসলামিয়া শিশু সদনের তিনটি সরকারি ভবন নির্মাণে সিডিউল বহির্ভূতভাবে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে কম এবং নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এলজিইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত রিপোর্টের আলোকে সদন কর্তৃপক্ষ দুদকে মামলা করলে স্থানীয় দায়িত্বরত দুদুক কর্মকর্তা  ‘কাটাকাটি করা নকশা’ কে দলিল বানিয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের বাঁচিয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ওই কাটাকাটি করা নকশায় তিনি সাক্ষীদের সই দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি জানিয়ে সদন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বল্লভ বিশু গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহে এই শিশু সদন নির্মাণের জন্য এলজিইডির তত্ত্বাবধায়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।  প্রায় নয় কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি পাঁচ তলার ডরমেটরি এবং একটি চার তলার স্কুল কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ১ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি।

টেন্ডারের মাধ্যমে ১নং বিল্ডিংটি গাইবান্ধার সাইদুর রহমান, দ্বিতীয় বিল্ডিংটি রাজশাহীর বালিয়াপুকুর ঘোড়ামারা এলাকার আলম কনস্ট্রাকশন এবং তৃতীয় বিল্ডিংটির ওয়ার্ক অর্ডার পায় রংপুর মহানগরীর জুম্মাপাড়ার লাবু আহমেদ। কিন্ত সাইদুর রহমান নিজে কাজটি করলেও আলম কস্টাকশন কাজটি কাউনিয়ার মুন্না শফি এবং লাবু আহমেদ কাজটি লালমনিরহাটের জাহিনুরের কাছে বিক্রি করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একেবারেই নিভৃত পল্লীতে হওয়ার সুযোগ নিয়ে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, রংপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, সমাজসেবার ডিডি হারুন অর রশিদের যোগাসাজসে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, এসও আমিনুল ইসলাম ও বশির উদ্দিন এবং ঠিকাদারি তিনটি প্রতিষ্ঠান এতিমদের লালন পালন সদনটির ভবন নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতি করে দেড় কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাত করেন। এ বিষয়ে নতুন বার্তা ডটকম এ একাধিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট বের হলে নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত আদেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য রংপুর অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরীফুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ও সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। তদন্ত কমিটি প্রথম দফা ২০১২ সালের ১০ই অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ১৭ নভেম্বর তদন্ত করেন।

এরপর ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন(স্মারক নং এলজিইডি/তঃ প্রঃ(রং:অঃ)/ই-৪০(অংশ-১)/২০০১২/২১১)। ১৭ পাতার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নতুন বার্তা ডটকম এ প্রকাশিত সংবাদে উপস্থাপিত অভিযোগ সমুহ সত্য বলে প্রমাণিত হয়’ উল্লেখ করে ভবন নির্মাণে আরো ভয়ঙ্কর সব অনিয়ম ও দুর্নীতি উল্লেখপূর্বক ভবন তিনটির নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ এবং জড়িত অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ও বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়।

কিন্তু অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা বিয়ষটিকে ধামাচাপা দিতে তৎপর থাকে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দুর্নীতির বিষয়টি আরো অধিকতর তদন্ত করতে ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর ঢাকা থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবেক্ষণ ও মূল্যয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল জাবেদ রংপুর সমাজ সেবার ডিডিকে নিয়ে সদনটি সরেজমিনে তদন্ত করেন।

এরপর তিনিও দুর্নীতি হয়েছে মর্মে রিপোর্ট দিয়ে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে একমাসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন (পত্র নং-২১.১৮১.০১৪.৪১.০২.০১৬.২০১০-১৬৮/তারিখ০৭-০১-২০১৪)|

এরপর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-২ এর সহকারী প্রধান পল্লব কুমার হাজরা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে(৪১.২০.০০০০.০৫৬.০২.০২৭.১২-১৩৩) ওই রিপোর্টের আলোকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব(বাজেট) কে আহবায়ক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে (পরিকল্পনা) সদস্য সচিব ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি প্রতিনিধি, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রতিনিধি, এলজিইডি ঢাকার প্রতিনিধি, এতিমখানার প্রতিনিধিকে সদস্য করে ছয় সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ করে তাদেরকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।

কিন্তু গত ১১ মাসেও আন্তঃমন্ত্রণালয়ের ওই কমিটি সদন পরিদর্শন করেননি এবং কোনো প্রতিবেদনও জমা দেননি। এই ঢিলেমির কারণে গত ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে (স্মারক নং ০৩.০৭০.০২৭.০২.০০.০০৮.২০১১-২৩৯) পরিচালক আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন একং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এই নির্দেশনা পেয়ে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সিনিয়র সহকারী প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আহসান গত ৪ ডিসেম্বর (৪১.২০.০০০০.০৫৬.০২.০২৭.১) জানুয়ারি মাসে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এতিমখানা সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের আটদিন অতিবাহিত হলেও  শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি আন্তঃমন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে এতিমখানাটির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন এলজিইডির রংপুর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী বশির উদ্দিন সরকার, আমিনুল ইসলাম সরকার, ঠিকাদার সাইদুর রহমান, মেসার্স আলম কনস্ট্রাকশন, মেসার্স লাবু আহম্মেদকে অভিযুক্ত আসামী করে ২০১৩ সালের  ২২ অক্টোবর রংপুর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন ৫(২) এবং দন্ডবিধি ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় মামলা (২১/১৩) দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক মামলাটি স্পেশাল মামলা হিসেবে রেকর্ড করে চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর এক আদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। এই আদেশের পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুদুক রংপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আকবর আলীর নেতৃত্বে রংপুর পিডব্লিউডির গণপূর্ত বিভাগের  উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহ্বান হাবীব ও প্রকৌশলী বিকাশ ভুষণ বুকশী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী  মো. খসরু সরকার ও জহরুল হক এবং এলজিইডি দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এতিমখানাটি সরেজমিন তদন্ত করেন। প্রকৌশলীরা ওই রিপোর্টটি ১৪ অক্টোবরের মধ্যে দুদুককে দেয়ার কথা থাকলেও গত দুই মাসেও তা দেয়া হয় নি।

এ ব্যাপারে রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বাহাদুর আলী জানান, দুদক মূল্য নির্ধারণ করে রিপোর্ট দিতে বলায় একটু দেরি হচ্ছে। আবারো এতিমখানায় আমাদের যেতে হবে।

তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী আমাদেরকে গণপূর্ত বিভাগের দর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারন করতে হবে।  কিন্তু কাজটি এলজিইডি করায় তাতে মূল্যের অনেক হেরফের হবে। তিনি বলেন, এলজিইডির দর অনুযায়ীই এর মূল্য নির্ধারণ করা উচিৎ।

নির্দেশনা দেয়ার দুই মাসেও রিপোর্ট না দেয়ার ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, কাজ চলছে।  দ্রুত রিপোর্ট দেয়া হবে। প্রয়োজন পড়লে আবারও সেখানে যাবো।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে এতিমখানাটি সরেজমিন তদন্ত করে এসে দুদুকের স্থাণীয় কর্মকর্তার যোগসাজসে গনপূর্ত বিভাগকে দিয়ে মূল্য নির্ধারণের নামে আত্মসাতকৃত টাকার অংক কমানো এবং কাটাকাটি করা নকশা দিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি জানিয়ে আবারও এতিম খানার সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক পৃথক লিখিত আবেদন করেন।

এ ব্যপারে সদনটির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন  বলেন, গণপূর্ত বিভাগের মূল্যের সাথে এলজিইডির মূল্যের অনেক তারতম্য থাকায় কৌশলে দুদকের কর্মকর্তা মো. আকবর আলী সদন নির্মাণ কাজটির মূল্য র্নিধারণ করতে গণপূর্ত বিভাগের দরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

এতে টাকার অংকে অনেক পার্থক্য আসবে। এজন্য আমি লিখিত আবেদন করে মুল্য নির্ধারণের জন্য এলজিইডির ২০১০/১১ অর্থ বছরের সিডিউল রেটে মূল্য নির্ধারণের দাবি করেছি।

তিনি বলেন, শুধু মুল্য নির্ধারণই নয়, দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আকবর আলী খান অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদার কর্তৃক প্রকল্প সমাপ্তির পর ‘কাটাকাটি করা নকশা’ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর ওই কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে তার টেবিলে আমি কাটাকাটি করা নকশা দেখতে পাই এবং সেটির কপি চাইলে তিনি তা আমাকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আমি তথ্য অধিকার আইনে ওই কপি চেয়ে আবেদন করেছি।

এলজিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী , রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদসহ অন্য তিন প্রকৌশলী কর্তৃক এই শিশু সদন প্রকল্পে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এবং এলজিইডির ডিজাইন ইউনিটের মাধ্যমে প্রকল্প সমাপ্তির পর এখন নকশা কাটাকাটি করে সংশোধন করা বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরুপ নকশাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর গ্রহনযোগ্য হবে না। যদি দুদক কিংবা অপর কোন তদন্ত সংস্থা ওই কাটাকাটি করা নকশাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচাতে চেষ্টা করে সেটিও আইনবিবেচ্য হবে না।

তিনি বলেন,দুদুকের কর্মকর্তা আকবর আলী  এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আহমেদর বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তারা দুজনে মিলে নকশা, সিডিউল, এমবিসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট কাটাকাটি করে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তিনি এতিমখানার পক্ষ থেকে যারা দুদুকে স্বাক্ষী দিতে গিয়েছিলেন, তাদেরকে জোড় করে ওই কাটাকাটি করা নকশায় সই দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু স্বাক্ষীরা সই না দিয়েই ফিরে এসেছেন। এখনও মোবাইল করে ওই কাটাকাটাকাটি করা নকশায় সই দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। বিষয়গুলো জানিয়ে আমি আবারও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেছি। যেন কোনভাবেই এতিমদের হক আত্মসাতকারীরা রেজাই না পায়।

এ ব্যাপারে দুদকের মামলার স্বাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, দুদক কর্মকর্তা আকবর আলী আমাকে কাটাকাটি করা নকশায় সই দেয়ার জন্য বললে আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। তিনি আমাকে এখনও নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন।

এ ব্যপারে দদুক রংপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আকবর আলী  জানান, ওই মামলার ইতিমধ্যেই ছয় জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করবো। তিনি কাটাকাটি করা নকশা দিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন স্বাক্ষীকে কাটাকাটি করা নকশা সই দেয়ার জন্য চাপ দিইনি। তবে এরকম একটি কাটাকাটি নকশা আমি এলজিইডি রংপুর থেকে  জব্দ করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ