মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৩৪টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় হাজার হাজার কোমলমতি শিশু প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবী জানিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম মন্ডল জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ভান্ডেরাই, মুছকুড়ি, জয়রামপুর, গনপৈত, ছয়ঘটি, পিকপাড়া, ছিরাবাজু, কুসুমতৈর, গোপালপুর, মহুগাঁও, বোয়ালমারী, ভাদুরিয়া, কোমরপুর, চেঙ্গাইক্ষেত্র, আওলাখুড়ি, ছোট বোচাপুকুর, শতগ্রাম ডাক্তারপাড়া, বাজিতপুর, বরকলা, ডালাগ্রাম, রশহিলা, নর্থডাঙ্গী, রথিনাথপুর, শিয়ালখেদা, আরাজিগোবিন্দপুর, বিষ্ণুপুর, চকউজিরা, চক মহাদেব, আরাজীনাগরি-সাগরি, বাসুদেবপুর, উত্তর রঘুনাথপুর, দেউলী পদ্ম, ভোগডোমা আশ্রয়ন ও বড় বোচাপুকুর গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৩০/৩৫ হাজার পরিবারের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ পরিবার দরিদ্র্র সীমার মধ্যে বসবাস করে।
২০ ভাগ পরিবারের সন্তানেরা আশপাশের গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়ার সুযোগ করে নিলেও অতিগরীব ও গরীব পরিবারের অধিকাংশ সন্তানেরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্তসহ শিশু শ্রমে নিয়োজিত হয়ে উজ্জল ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত অন্ধকারে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শত শত বছর ধরে ঐসব গ্রামে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে না।
পলাশবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও শিবরামপুর ইউপি চেয়ারমান জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দাতা থাকলেও সরকারী নীতিমালায় জটিলতা থাকার কারণে এলাকাবাসী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছেন না।
বীরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম মন্ডল জানান, গত মার্চ মাসে ৯০নং অধিবেশনে ভান্ডেরাই, মুছকড়ি, জয়রামপুর ও গনপৈত মৌজায় প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সরকার ইতিমধ্যেই এসএমসি’র কাছ থেকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রত্যাহার করার কারণে উদ্যোক্তারা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের কথা ২/৩ লক্ষ টাকার সম্পদ বিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তর করে ছেমে-মেয়ে ২/১ জনকে চাকুরী দিতে না পারলে কোন স্বার্থে জমি দান করব।
এসব বিবেচনায় এনে অতিদ্রুত উল্লেখিত গ্রামে পাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।